Friday, September 1, 2023

7>●সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ।

 (1)●সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ।

(2)●>বাংলাভাষা/বাংলা  বানান,

(3)●>  প্যালিনড্রোম

===============================

(1)●সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ।

★1>অন্ন----ভাত।

         অন্য---অপর।


★2>অর্ঘ----মূল্য।

         অর্ঘ্য---পুজর উপকরণ।

★3>অশ্ব-----ঘোড়া।

         অশ্ম-----পাথর।

★4>আপন----নিজ।

         আপণ----দোকান।

★5>আবরণ----আচ্ছাদন

         আভরণ----অলংকার।

★6>আসার-------প্রবল বর্ষণ।

         আষার-------মাস বিশেষ।

★7>কমল---------পদ্ম।

         কোমল-------নরম।

★8>কুজন---------খারাপ লোক।

         কূজন----------পাখির ডাক।

★9>কুল-------------বংশ।

         কূল------------নদীর তীর।

★10>কালি--------রং বিশেষ।

          কালী---------দেবী বিশেষ।

★11>কটি-----------কোমর।

         কোটি---------সংখ্যা বিশেষ।

★12>গিরিশ-------মহাদেব।

          গিরীশ-------হিমালয়।

★13>চাষ--------কৃষি কাজ।

           চাস--------নীলকন্ঠ পাখি।

★14>জ্বর---------রোগ বিশেষ।

           জড়--------অচেতন।

★15>বিনা--------ছাড়া।

            বীণা-------বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।

★16>দিন---------দিবস।

           দীন---------দরিদ্র।

★17>দীপ---------প্রদীপ।

          দ্বীপ---------জলবেষ্টিত ভূ-ভাগ।

★18>দেশ----------রাষ্ট্র।

            দ্বেষ---------হিংসা।

★19>ধুম-----------জাঁকজমক।

            ধূম----------ধোঁয়া।

★20>লক্ষ----------দেখা, সংখ্যা বিশেষ।

          লক্ষ্য----------উদ্দেশ্য।

★21>পানি----------জল।

            পাণি---------হাত।

★22>শাপ----------অভিশাপ।

           সাপ----------সর্প।

★23>শারদা-------দুর্গা।

            সারদা------সরস্বতী।

★24>শূর---------বীর।

           সুর----------দেবতা,  কন্ঠস্বর।

★25>সাক্ষর-------অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন।

           স্বাক্ষর-------সই,  দস্তখত।

★26>বাণ-----------তীর।

          বান-----------বন্যা।         

★27>বিশ----------সংখ্যা বিশেষ।

          বিষ----------গরল।

★28>আশা--------বাসনা।

          আসা--------আগমন।

★29>পড়া---------পাঠ করা।   

           পরা----------পরিধান করা।

★30>সকল--------সমস্ত।

           শকল--------মাছের আঁশ।

================================       

 2●>বাংলা  বানান,++2>প্যালিনড্রোম++3>জীবনের গণিত ||


    ( 2)●>বাংলাভাষা/বাংলা  বানান,


 রক্তে রাঙ্গা আমাদের বাংলাভাষা।

কেউ আবার বলেন বাঙ্গলা ভাষা।


আসুন 'ই' ও 'ঈ'য়ের ব্যবহার খুঁটিয়ে দেখি। 


সূত্র ১

বাঙ্গলা ভাষায় ব্যবহৃত সমস্ত বিদেশি শব্দে 'ই'  হবে। 


প্রাইমারি

লাইব্রেরি

বাউণ্ডারি

জানুয়ারি

কান্ট্রি


সূত্র ২

জাতি বাচক শব্দে 'ই' হবে। 


বাঙ্গালি

ফরাসি

আরবি

মারাঠি


সূত্র ৩

সন্ধির কারণে 'ই' পরিবর্তিত হবে' ঈ' কারে। যথা, 

রবি + ইন্দ্র —> রবীন্দ্র 

যতি + ইন্দ্র —>  যতীন্দ্র

ব্যতিক্রম ( যদিও প্রত্যয় সংক্রান্ত) 

কাঠ + ই —> কাঠি


সূত্র ৪

তৎসম শব্দে 'ঈ' কার তদ্ভব রূপে 'ই' কার হয়। যথা, 

পক্ষী  —>  পাখি

হস্তী   —>  হাতি

কুম্ভীর —>  কুমির

গৃহিণী —>  গিন্নি


সূত্র ৫

সমাসবদ্ধ শব্দে 'ঈ' কার রূপান্তরিত হয়ে 'ই' কার হয়। যথা, 

মন্ত্রী + সভা —> মন্ত্রিসভা 


সূত্র ৬

'তা' প্রত্যয় যোগে শব্দের শেষে 'ঈ' কার রূপান্তরিত হয় 'ই' কারে। যথা, 

প্রতিযোগী + তা প্রত্যয় —> প্রতিযোগিতা

সহমর্মী + তা প্রত্যয়    —> সহমর্মিতা

প্রতিদ্বন্দ্বী + তা প্রত্যয়   —> প্রতিদ্বন্দ্বিতা


সূত্র ৭

শব্দের সাথে 'ঈয়' প্রত্যয় যোগ হলে  'ঈ' কার  বসে। যথা, 

জল + ঈয় প্রত্যয় —> জলীয়

লোভ + ঈয় প্রত্যয় —> লোভনীয় 


'ইক' প্রত্যয় হলে 'ই' কার হবে। যথা, 

কল্পনা + ইক প্রত্যয় —> কাল্পনিক


'ঈ' প্রত্যয় হলে 'ঈ' কার হবে। যথা, 

অনুরাগ + ঈ প্রত্যয় —> অনুরাগী

সহযোগে + ঈ প্রত্যয় —> সহযোগী


সূত্র ৮

তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে 'ঈ' কার হয়। যথা, 

নেত্রী

পাত্রী

ভিখারিণী 

রমণী

গৃহিণী 


সূত্র ৯

'কি' না 'কী'


বিস্ময়ার্থে সদাই 'কী'। যথা, 

কী ভয়ংকর! 

কী চমৎকার! 

কী সুন্দর! 


প্রশ্নবোধক হলে এবং উত্তর হ্যাঁ বা না হলে, 'কি' হবে। যথা, 

তুমি আমার সাথে যাবে কি ? 


অন্যথা 'কী' হবে। যথা, 

তোমার নাম কী ? 


সূত্র ১০

শেষে 'উ' কারের সাথে শুরুতে 'উ' কারের সন্ধি হলে 'ঊ' কারে পরিবর্তিত হয়। যথা, 

কটু + উক্তি —> কটূক্তি 

মরু + উদ্যান —> মরূদ্যান


ভুলের কোন অবকাশ থাকেনা, যদি মনটা সজাগ থাকে। 

আসি এইবার। 

ওঃ, এই লেখায় কোন ভুল বানান চোখে পড়লে আমাকে জানাবেন কিন্তু ।


ভেবেছিলাম এই জ্ঞান বিতরণ এর খেলায় ইতি টানব, কিন্তু অগ্রজপ্রতিম শিক্ষকের আদেশ উপেক্ষা করতে না পেরে  বেহায়া পাগলা দাশু ফিরে এল, অন্তরের টানে ফিরে এল। কি জানেন, মনের কথা ঝরঝরে ভাষায় লিখলে পড়েও সুখ। ঠিক বোঝাতে পারব না কেমন সুখ, কতটা সুখ। দেখা যাক, আর কতো ভূল জানী —


উদ্ভূত          উদ্ভুত নয়

উনিশ          ঊনিশ নয়

উপায়ান্তর    উপায়ন্তর নয়

উর্বশী          ঊর্বশী নয়


উঠছিল   উঠছিলো নয়

উঠত       উঠতো নয়

উঠব       উঠবো নয়

ওঠাব      ওঠাবো নয়


ঊর্ধ্ব        ঊর্ধ নয়

ঊর্মি        উর্মি নয়

এ তো      এতো নয়

ওড়িশা     উড়িষ্যা নয়


ওঁর                 ওনার নয়

কনিষ্ঠ             কনিষ্ঠতম কখনই নয়

কমিউনিজম   কম্যুনিজম নয়

কারবারি         কারবারী নয়


কশা           কষা নয়

(চাবুক কশানো) 

কষা           কশা নয়

(কষা মাংস) 

কারিগরি   কারিগরী নয়

কিম্ভূত       কিম্ভুত নয়


উজ্জ্বল   উজ্জল নয়

উতরাই   উৎরাই নয়

ইজ্জত     ইজ্জৎ নয়


ইদানীং    ইদানিং নয়

ইরান       ইরাণ নয়

ইসলামি   ইসলামী নয়


ইমারত      ইমারৎ নয়

ইশারা        ইসারা নয়

ইস্টবেঙ্গল  ইষ্টবেঙ্গল নয়


ঈদৃশ      ইদৃশ নয়

উত্ত্যক্ত    উত্যক্ত নয়

উঠল       উঠলো নয়


ওঠাব       ওঠাবো নয়

এ ছাড়া     এছাড়া নয়

একশা       একসা নয়


এখনও         এখনো নয়

এম. এসসি   এম. এস. সি নয়

এঁর               এনার নয়


এল               আসল বা আসলো নয়

এগিয়ো         এগিও নয়


এই বয়সে গৃহিণীর কানমলা খেয়ে শিখেছি।


'ভুতোর চন্দ্রবিন্দুর' সাথে পরিচয় আছে কী। না থাকাই ভাল। কেন অকালে চন্দ্রবিন্দুর ভার তুলবেন। আমরা বরং চন্দ্রবিন্দুর খেল দেখি,  ব্যঞ্জনবর্ণের এই শেষ বর্ণ পরের ঘাড়ে চেপে কেমন রাজত্ব করে। ইনি পরাশ্রয়ী বর্ণ, অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের ঘাড়ে চড়ে তাকে সানুনাসিক করে তোলেন। কিন্ত এঁর ঘাড়ে চড়ার ধরণ কেমন? শিকার হিসেবে চন্দ্রবিন্দুর পছন্দ 'ঙ', 'ঞ', 'ণ', 'ন',' ম' ও 'ং'।


আসুন, একটু 'ঙ' নৌকায় বেড়িয়ে আসি।  


আমরা বেছে নিই কিছু তৎসম শব্দ যাতে 'ঙ' আছেন। যথা, 'বঙ্কিম', 'অঙ্কন' বা 'কঙ্কণ'।

এই শব্দগুলি থেকে 'ঙ' চলে গেলে পূর্ববর্তী বর্ণের উপর চন্দ্রবিন্দু অবতীর্ণ হন। যথা —


বঙ্কিম —> বাঁকা

অঙ্কন —> আঁকা

কঙ্কণ —> কাঁকন


চলুন, এইবারে 'ঞ'য়  চড়ে নাচা যাক ।দেখা যাক কিছু তৎসম শব্দ যাতে 'ঞ' বিরাজমান।


নিয়ম সেই একই, 'ঞ' যেখান থেকে বিদায় নেবেন, তার আগের বর্ণের ঘাড়ে চড়বেন চন্দ্রবিন্দু। যথা, 


পঞ্চ   —> পাঁচ

কাঞ্চা  —> কাঁচা

কাচে (গ্লাস) কিন্ত চন্দ্রবিন্দু নেই। 


এইবার 'ণ' নাকের পরে। 


কণ্টক —> কাঁটা

খেয়াল করুন, বিনা চন্দ্রবিন্দু, শব্দের অর্থ কিন্তু পাল্টে যেতে পারে। চন্দ্রবিন্দু না থাকলে হয়ে যাবে 'কাটা', যার অর্থ আলাদা। 

'মাছটি কাটা হল, দেখা গেল কাঁটা নাই।' 


এইবার দেখি শিবের বাহন এর কি গতি করেন চন্দ্রবিন্দু। 

ষণ্ড —> ষাঁড়


শীতের বেলায় 'কণ্থা' ছাড়া বাঁচা মুস্কিল। এইবারে চন্দ্রবিন্দুর খেল দেখুন। সেই এক নিয়ম।


কণ্থা —> কাঁথা


চন্দ্রবিন্দুর খপ্পরে নাপিতভায়ার 'ন' য়ের হাল দেখুন—


যন্ত্র  —> যাঁতা

তন্তু  —> তাঁতি


'খান' পদবীর হাল আরও মজাদার

খান —> খাঁ


সিন্দুর   —> সিঁদুর 

ইন্দুর    —> ইঁদুর 

বন্ধন    —> বাঁধন

অন্ধকার —> আধাঁর

স্কন্ধ    —>  কাঁধ

সন্তরণ  —>  সাঁতার

সন্ধ্যা   —>  সাঁঝ


ম-কারেরও ছাড় নেই চন্দ্রবিন্দুর হাত থেকে 

ঝম্প   —> ঝাঁপ

কম্পন  —> কাঁপন

গ্রাম    —> গাঁ


ং এর উদাহরণ দিতে শ্রী কৃষ্ণের শরণাপন্ন হতে হবে।  প্রকৃষ্ট উদাহরণ বাঁশি


বংশী   —> বাঁশি

হংস    —> হাঁস

কাংস্য —> কাঁসা


ব্যতিক্রম — 

সম্মানার্থে সর্বনাম । যথা, তাঁর, যাঁর, ইত্যাদি।

ধ্বন্যাত্মক শব্দ। যথা, শাঁ শাঁ, ভোঁ ভোঁ, কোঁ কোঁ ইত্যাদি।


পরাশ্রিত বর্ণের পরাক্রম দেখলেন তো। কেমন পরের ঘাড়ে কাঁঠাল ভাঙ্গে। 

===========================

       (3)●>  প্যালিনড্রোম


মেয়ে দুটি কলকল করে বললে, একটা সহজ দেখে দিই।

 বলো দেখি আঙ্কল, এই শ্লোকের মজাটা কোথায়?

তংভূসুতামুক্তিমুদারহাসংবন্দেয়তোভব্যভবমদয়াশ্রীঃ। শ্রীযাদবংভব্যভতোয়দেবংসংহারদামুক্তিমুতাসুভূতম্‌।।


আমি যথাবিহিত আমার প্রশ্নকর্ত্রীদেরই শরণাপন্ন হলুম।

ওরা বললে, প্রথম পংক্তিটি উল্টো করে পড়লেই দ্বিতীয় পংক্তি। এক্কেবারে প্যালিনড্রোম। কিন্তু অর্থ দাঁড়ায় দুরকম।

সরাসরি পড়লে পহেলিটি এই রকম। রামচন্দ্রের বন্দনা।

তংভূসুতামুক্তিমুদারহাসংবন্দেয়তোভব্যভবমদয়াশ্রীঃ।


মানে হল, প্রণাম করি সেই পুরুষকে যিনি সীতাকে উদ্ধার করেছিলেন, যাঁর হাসি মনোমুগ্ধকর, যাঁর আবির্ভাব মহিমময় এবং যিনি বিতরণ করেন অপার করুণা ও বিভা।

উল্টোদিক থেকে পড়লে শ্রীকৃষ্ণের স্তব।

শ্রীযাদবংভব্যভতোয়দেবংসংহারদামুক্তিমুতাসুভূতম্‌।।


অর্থাৎ, যদুবংশোদ্ভূত সেই পরমপুরুষ, যাঁর মধ্যে সূর্য এবং চন্দ্রের পূর্ণশোভা, যিনি বিধ্বংসী পুতনাকে বিনষ্ট করেছিলেন, এবং যিনি এই ব্রহ্মাণ্ডের প্রাণস্বরূপ, সেই শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম।

স্তম্ভিত হয়ে রইলাম খানিকক্ষণ। আশ্চর্য শব্দপ্রয়োগ। দীর্ঘ সমাসবদ্ধ প্যালিনড্রোম অথচ কী নিখুঁত অর্থব্যঞ্জনা। কোথায় পেলো এই বালিকারা এই আশ্চর্যের খোঁজ? কোন্ কাননের ফুল তোরা? কোন্ গগনের তারা?

টুকে রাখলাম পহেলিটি। ভদ্রলোকের নাম ঠিকানাও।  ।

আমার বড়ু ও ছোটকু আর একটু বড়ো হোক।  সদানন্দ মুত্তুস্বামী, আমি এই এলুম বলে।

------------------------- 

=========================


No comments:

Post a Comment