বাংলা বানান::--
1)পরা’ ও ‘পড়া’ ||
2> || চন্দ্রবিন্দু ||সংগৃহীত ||
3>|| বই পড়া,বানান, ও মজার সব তথ্য ||
===================
1)|| ‘পরা’ ও ‘পড়া’ ||
যারা ‘পরা’ ও ‘পড়া’কে গুলিয়ে ফেলি
লিখতে গিয়ে আমরা প্রায়ই বানান ভুল করি।
অভিধান আমাদের শব্দবন্ধু।
আমরা হামেশাই ‘পরা’ আর ‘পড়া’ এই ক্রিয়াপদ দুটোকে গুলিয়ে ফেলি।
কিন্তু ‘পরা’ আর ‘পড়া’ এক নয়। কেবল কোনো কিছু পরিধান করা অর্থে ‘পরা’ এবং বাকি সব ক্ষেত্রে ‘পড়া’।
যেমন::---
১. আমি পাঞ্জাবি ‘পরি’। ২. বাবা চশমা ‘পরেন’। ৩. মা শাড়ি ‘পরেছেন’। ৪. নানি চাদর ‘পরতেন’। ৫. সেদিন নীল পাঞ্জাবি ‘পরেছিলাম’, আজ লাল পাঞ্জাবি ‘পরব’। ৬. মেয়েটি টিপ ‘পরতে’ পছন্দ করে। ৭. কোনোমতে খেয়ে-‘পরে’ বেঁচে আছি। ৮. আমি কারওটা খাইও না, ‘পরি’ও না। ৯. সেদিনের ওই শাড়ি-‘পরা’ বালিকাটিকে আর কোথাও দেখিনি। ১০. আমি চাই বন্ধুটি আজ নীল শাড়ি ‘পরুক’। ১১. সে খাওয়া-‘পরা’র চিন্তায় অস্থির।
উল্লিখিত প্রতিটি বাক্যেই ‘পরা’ কিন্তু কোনো কিছু পরিধান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
পড়া
১. বই ‘পড়ছি’। ২. বৃষ্টি ‘পড়ছে’। ৩. গাছ থেকে আম ‘পড়ল’। ৪. লোকটা রিকশা থেকে ‘পড়ে’ গেল। ৫. বাজারে আলুর দাম ‘পড়ে’ গেছে। ৬. বেজায় গরম ‘পড়েছে’। ৭. ভারি বিপদে ‘পড়েছি’। ৮. দাদিজান নামাজ ‘পড়ছেন’।
এবার ‘পরা’ আর ‘পড়া’ একই বাক্যে রেখে কিছু উদাহরণ দিই: ১. শাড়ি ‘পরে’ সিঁড়ি বাইতে গিয়ে মেয়েটি ‘পড়ে’ গেল। ২. স্কুল ড্রেস ‘পরে’ সে ‘পড়তে’ গেল। ৩. সংবাদ ‘পড়া’ শেষ করে সংবাদপাঠিকা সাধারণ পোশাক ‘পরলেন’। ৪. ‘পড়া’টা শেষ করো, তারপর তোমাকে পাঞ্জাবি ‘পরিয়ে’ দেব। ৫. নামাজ ‘পড়বে’ বলে সে টুপি ‘পরেছে’। ৬. চশমা না ‘পরলে’ তিনি ‘পড়তে’ পারেন না। ৭. কাজল ‘পরতে’ গিয়ে মেয়েটির চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে ‘পড়ল’। ৮. মেয়েটি কখনো রাবীন্দ্রিক পোশাকও ‘পরেনি’, রবীন্দ্রনাথের কোনো লেখাও ‘পড়েনি’। ৯. জুতো ‘পরার’ সময়ে মেঝেতে ধুলা ঝরে ‘পড়ল’। ১০. আগামীকাল পরীক্ষা; এটা তোমার মেকআপ ‘পরাপরির’ সময় না, বই ‘পড়াপড়ির’ সময়।
এই হচ্ছে ‘পরা’ আর ‘পড়া’র পার্থক্য। ‘বৃষ্টিতে ভেজার পরে ওর জ্বর এসেছে’ এই ‘পরে’ বানানে কিন্তু ‘র’। এই ‘পরে’ অবশ্য ক্রিয়াপদ নয়। আজ এ পর্যন্তই। তোমরা যারা চশমা ‘পরো’, তারা এবার চশমা ‘পরে’ ক্লাসের ‘পড়া’ ভালো করে ‘পড়ো’। আর যারা চশমা ‘পরো’ না, তারাও ‘পড়তে’ বসো। ঠিক আছে?
==========================
2> || চন্দ্রবিন্দু ||সংগৃহীত ||
বাংলার শেষ অক্ষর চন্দ্রবিন্দু জানি,
বাংলা লেখা সহজ নয় এইটুকু মানি।
আঁশযুক্ত ইলিশ খেতে মনে জাগে আশ,
কাটা হ'ল চার টুকরো,কাঁটা একরাশ।
নৌকা চালায় দাঁড়ি, দাড়ি তার সাদা,
তীরেই তরীটি বাঁধা, নেই কোন বাধা।
কুড়িটি চাঁপার কুঁড়ি, ঝুড়ি দিয়ে চাপা,
ফন্দি ভাঁজা হ'ল চাল ভাজা মাপা।
বাক্য সাজিয়ে কত গাঁথা হ'ল গাথা,
খালি গায়ে বসে গাঁয়ে, টাক তার মাথা।
জামাখানা কাচা হ'ল,রং ছিল কাঁচা,
জমি জমা বেচে দিয়ে বেঁচে গেল চাচা।
পাক খেয়ে পাঁকে পড়ে, কাদা মেখে কাঁদা,
পাঁজি দেখে রাজি হ'ল পাজি এক দাদা।
যার তার শিরে যদি করে আরোহণ,
যাঁর তাঁর সর্বনামে সম্মান জ্ঞাপন।
নামের আগেতে কভু চন্দ্রবিন্দু এলে,
প্রাণ নাশ হয়ে তার স্বর্গলাভ মেলে।
(সংগৃহীত)
=========================
সংগৃহীত না কি সংগ্রহীত,
সংগ্রহীত ভুল শব্দ। এরূপ বানানের কোনো শব্দ অভিধানে নেই। ব্যাকরণমতে এমন শব্দ হতে পারে না। সংগ্রহ অর্থ— (বিশেষ্যে) জোগাড়, আহরণ, সংকলন। সংগ্রহকারীকে বলা হয় সংগ্রহীতা। এটি ব্যক্তি বা বস্তু নয়। সংগ্রহীতা যা সংগ্রহ করে তা সংগৃহীত। ...
==========================
3>||বই পড়া,বানান, ও মজার সব তথ্য ||
সুপ্রযুক্ত== বাংলা অর্থ
যথাযথভাবে বা সঠিকভাবে ব্যবহার বা প্রয়োগ করা হয়েছে এমন।
প্রণিপাত= প্রনাম, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম
"দুর্গা'= দয়ে রশুকার =বানান এটিই সঠিক বানান।
দূর্বা= দয়ে দীর্ঘুকার=বানান এটিই সঠিক বানান।
দূর=দয়ে দীর্ঘুকার=বানান এটিই সঠিক বানান।
দুর্গা=
দুর্গ -শব্দের স্ত্রীলিগে- দুর্গা,
দূর-গম্ +অ =দুর্গ,
দূর-গম্ +অ+আ =দুর্গা।
=============
=====================
বই পড়া নিয়ে মজার সব তথ্য।
১) Dog’s Ear– বুকমার্ক হিসেবে বইয়ের পাতার ওপরের দিকের কোণাটা ভাঁজ করে রাখেন তো পড়তে পড়তে উঠে যাওয়ার আগে। ওটাকে Dog’s Ear বলে। কেন? আবার বলতে হবে, কিছু কিছু কুকুরের কানটা ঐভাবেই থাকে যে।
২)Librocubicularist (লিব্রোকুবিকুলারিস্ট) – যে ব্যক্তি বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ে।
৩)Epeolatry (এপিওলাট্রি) – এ হল গিয়ে শব্দের আরাধনা করা। শব্দের মধ্যে এক অসামান্য মাধুর্য, বাক্যে তার ব্যবহার মন কে যখন মুগ্ধ করে দেয়। ভাষাবিদ দের মধ্যে এই মোহ বিশেষ দেখা যায়।
৪)Logophile (লোগোফাইল) – যে ব্যক্তি শব্দের প্রতি মোহাবিষ্ট।
৫)Bibliosmia (বিব্লিওসমিয়া) – পুরনো বইয়ের গন্ধ
৬)Book bosomed (বুক বোসম্ড) – যে ব্যক্তি বই ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারে না।
৭)Omnilegent (অমনিলেজেন্ট) – যে বিষয়ের বাছ বিচার না করে সব ধরনের বই পড়ে।
৮)BallyCumber (ব্যালিকাম্বার) – অর্ধেক পড়া অবস্থায় যে সব বই রেখে আপনি উঠে যান,সেই সব বই কে BallyCumber বলে
৯)Tsundoku (সুন্দোকু) – জাপানীজ শব্দ। ইংরেজী প্রতিশব্দ নেই। এর অর্থ কেনার পর থেকে বই একবারের জন্য না খোলা।
১০)Princep (প্রিন্সেপ) -কোন বইয়ের প্রথম ছাপা কপিটিকে princep বলে।
১১)Sesquipedalian (সেস্কুইপিডালিয়ান) – যে শব্দে অনেকগুলি Syllable বা পদাংশ থাকে।যেমন- ses/qui/pe/da/li/আন
১২)Colophon (কোলোফন) – বইয়ের শিরদাঁড়া, কিংবা প্রচ্ছদে প্রকাশকের যে প্রতীক চিহ্ন দেখা যায়
১৩) Biblioclasm (বিব্লিওক্লাসম) – ইচ্ছাকৃতভাবে বই নষ্ট করা।
১৪)fascile (ফ্যাসাইল) – খন্ড।প্রথম খন্ড,দ্বিতীয় খন্ড…ইত্যাদি।fascile হল কোন বই অনেকটা সময় ধরে যখন বিভিন্নখণ্ডে প্রকাশিত হয়-যেমন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, অক্সফোর্ড ডিকশনারি।
১৫)Afficted (আফিক্টেড) – কোন গল্পের শেষটায় চরম মর্মান্তিক এবং সেটা পড়ার পর প্রবল কাঁদতে ইচ্ছে হলেও কাঁদতে না পারা,লোকে কি ভাববে এই অনুভূতিকে afficted বলে।
১৬)Bookklempt (বুকক্লেম্প্ট) – যখন কোন সিরিজের শেষ বইটা পড়ে ফেলেছেন।জানেন যে আর কোন খন্ড বেরোবে না।তবু এই সত্যি কে মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন আপনি।এই অনুভূতিকেই বুককলিম্পিত বলে।
১৭)Chaptigue (চ্যাপটিগ) – সারারাত জেগে বই পড়ার পরের দিন সকাল বেলা আপনার যে ভীষন ক্লান্তিবোধটা আসে, জানবেন ওই ক্লান্তিটাকে Chaptigue বলে।
১৮) Delitrium (ডেলিট্রিয়াম) – নতুন কেনা বইয়ের গন্ধে আপনার মনে যে ফুরফুরে ভাবটা ওটার নামই Delitrium।
১৯)Madgedy (ম্যাজেডি) – কোন দুঃখের গল্প বারবার পড়া এবং পড়তে পড়তে আবার যে আশা করা এবার নিশ্চয়ই শেষটা অন্য রকম হবে।
২০) Mehnertia (মেনারটিয়া) – কোন বই অনেকটা পড়ার পর থামিয়ে দিয়ে পুনরায় প্রথম থেকে পড়া শুরু করা।কারণ ততক্ষনে আপনি পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে ফেলেছেন যে কি পড়ছেন।
২১)Rageammend (রেজামেন্ড) – যখন আপনি পছন্দের বইটা অন্যান্য বন্ধুদেরকে পড়ার জন্য সুপারিশ করবেন আর করার পরই শুনবেন যে তাদের সেটা আগেই পড়া হয়ে গেছে এবং মোটেও ভাল লাগেনি,তখন আপনার মনের যা অবস্থা হয়, সেটাই।
২২)Swapshame (স্বপশেম) - যখন একটা বই পড়ছেন।পড়তে পড়তে অন্য একটা বই যার শুরুটাও মনে ধরেছে।এখন বুঝতে পারছেন না কোনটা আসলে পড়বেন। মনের এই অবস্থাটাই।
#সংগৃহীত