12)> বাংলা প্রবাদ-প্রবচন
হরি ঘোষের গোয়াল বলা -----
হরি ঘোষ অতিশয় দক্ষ ছিলেন বাংলা, ফার্সি ও ইংরেজিতে।
তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুঙ্গের দুর্গের দেওয়ান ছিলেন।
তিনি অবসরের পর প্রচুর অর্থ জনহিতকর কাজে ব্যয় করতেন। উত্তর কলকাতায় তার বাড়িতে বহু ছাত্র থাকা খাওয়ার সুযোগ পেত। এছাড়া তার বিশাল বৈঠক খানায় শত শত নিষ্কর্মা লোকও তার উদারতার সুযোগে সেখানে আড্ডা দিত ও খাওয়া দাওয়া করতো।
গরুরা যেমন গোয়ালের ভেতর শুয়ে বসে জাবড় কাটে আর 'হাম্বা' ডাক ছাড়ে, এদের অবস্থা হরি ঘোষের বাড়িতে ছিল এরকমই। সেই কারণে কোনো বাড়ি বা স্থানে অনেক লোকের হৈ চৈ বা কোলাহল থাকলে তাকে হরি ঘোষের গোয়াল বলা হয়।
--------------------- ---------------------
*ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে:----
*ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে:----
সুপ্রাচীনকাল থেকেই জ্বালানি হিসেবে এদেশের গ্রামাঞ্চলে ঘুঁটে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গোবরের সাথে কাঠ কয়লার গুঁড়া বা ধানের তুষ মিশিয়ে গোল চাকতির মতো বানিয়ে শুকনো হয় ও পরে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গোবরের অমোঘ পরিণতি হচ্ছে তার থেকে ঘুঁটে হবে এবং সেই ঘুঁটেকে আগুনে পুড়তে হবে। অনেক ব্যক্তি অন্যের দুঃখ কষ্ট দেখে সাময়িক আনন্দ পেলেও তাকেও যে ঐ ধরণের যন্ত্রণা পেতে হতে পারে তা ভাবে না। কারণ সুখ দুঃখ চক্রাকারে আসে। এ ধরণের মানুষের পরিণতি বোঝাতে আলোচ্য প্রবাদের উৎপত্তি। ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে।
--------------------- ---------------------
*চিত্রগুপ্তের খাতা:---
সনাতন ধর্ম অনুসারে, চিত্রগুপ্ত হচ্ছেন যমরাজের কেরানি বা হিসাব রক্ষক। তিনি মানুষের জীবনের সব কাজের হিসেব রাখেন। তার কাজে কখনো ভুল হয় না। আর এজন্য মানুষ কোনো কাজ করার আগে ভাবে সে যা করছে তা অদৃশ্য কেউ অর্থাৎ চিত্রগুপ্ত লিখে রাখছেন। অদৃষ্টের লিখন অথবা ভাগ্যের অমোঘ বিধান বোঝাতে চিত্রগুপ্তের খাতা বোঝানো হয়।
--------------------- ---------------------
*ওঝার ব্যাটা বনগরু:
কোনো জ্ঞানি ব্যক্তির ছেলে যদি মূর্খ হয় তবে তাকে বোঝাতে এ প্রবাদ ব্যবহৃত হয়। ওঝা শবটি এসেছে সংস্কৃত উপাধ্যায় থেকে (উপধ্যায়>উবজঝাঅ>ওঝাঅ>ওঝা)। উপাধ্যায় হচ্ছেন শিক্ষক বা পন্ডিত , এর প্রাকৃত রূপ উবজঝাঅ। তা থেকে এসেছে ওঝা। প্রাচীন ব্রাক্ষণদের মাঝে ওঝা পদবির প্রচলন ছিল, যা দ্বারা জ্ঞানী বোঝাতো। বনগরু এসেছে সংস্কৃত শব্দ গবয় থেকে, যা দ্বারা গলকম্বলহীন গরুর মতো বন্য প্রাণীকে বোঝায়, যারা তেমন কাজে আসে না।
--------------------- ---------------------
*শিখণ্ডী খাড়া করা:---
আড়াল থেকে অন্যায় কাজ করা। যার আড়ালে থেকে এ কাজ করা যায় তাদের বলে শিখণ্ডী। মহাভারতের কাহিনী অনুসারে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন ও ভীষ্মের মাঝে প্রচন্ড যুদ্ধ হচ্ছিল। অর্জুন তার সামনে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন শিখণ্ডীকে। শিখণ্ডী সামনে থাকায় ভীষ্ম কোনো অস্ত্র প্রয়োগ করেন নি। ফলে তাকে হত্যা করেন অর্জুন, যা ছিল যুদ্ধনীতির পরিপন্থী ও অন্যায়।
--------------------- ---------------------
*থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর:
একই কথার অর্থহীন পুনরাবৃত্তি।
#শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
যে থানে শুঁচী না জাএ।
তথাঁ বাটিআ বহাএ।।(#তাম্বুলখন্ড)
অর্থ: যেখানে সূচ প্রবেশ করতে পারে না সেখানে রজ্জু ঢোকানো যা করা অসম্ভব।
* মাকড়ের হাথে যেহ্ন ঝুনা নারীকল (#দানখন্ড)
অর্থ: বানরের হাতে যেমন ঝুনা নারকেল। বানর ঝুনা নারকেল খেতে পারে না। এটি ব্যঙ্গার্থে ব্যবহৃত হয়।
* ললাট লিখিত খন্ডন না জাএ।
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* দেখিল কোকিল বেল গাছের উপরে।
আরতিল কাক তাক ভখিতেঁ না পারে।
অর্থ: বেল পাকলে কাকের কিছু আসে যায় না কারণ বেল শক্ত বলে কাক থেতে পারে না।
* আপণার মাঁসে হরিণী জগতের বৈরি
অর্থ: নিজ মাংসের জন্য হরিণ জগতের সবার শত্রু।
* মুদিত ভান্ডারে কাহ্নাঞিঁ না সাম্বাএ চুরী। (#নৌকাখন্ড)
অর্থ: রুদ্ধ ভান্ডারে চোর প্রবেশ করতে পারে না।
* হাত বাঢ়ায়িলেঁ কি চান্দের লাগ পাই (#ভারখন্ড)
অর্থ: হাত বাড়ালে কী চাঁদকে স্পর্শ পাওয়া যায়?
* হাত পাতিয়াঁ কেহ্নে নাহিঁ দেহ ভাত।(বৃন্দাবনখন্ড)
অর্থ: পাত পেতে কেন ভাত দাও না। আশা নিয়ে থাকা কাউকে আশাহত করা।
* যার কান্ধ বসে দোষর মাথা(#কালীয়দমনখন্ড)
অর্থ: এখানে , যার কাধেঁ দুটি মাথা আছে সেই কেবল রাধার সাথে কথা বলতে পারে বুঝানো হয়েছে।
* দৈব নিবন্ধন খন্ডন না জাএ।(#বংশীখন্ড)
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* যে ডালে করো মো ভরে।
সে ডাল ভাঙ্গিয়া পড়ে।। (#রাধাবিরহখন্ড)
অর্থ: যে ডালে আশ্রয় লাভ করা যায় সে ডাল ভেঙ্গে পড়ে আশাহত হওয়া।
#চর্যাপদ:
* হাথেরে কাঙ্কাণ মা লৌউ দাপণ (৩২ নং পদ)
অর্থ: হাতের কঙ্কণ আছে কিনা তা দেখার জন্য তো আর আয়না/দর্পনে দেখতে হয় না।
* আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী (৬নং পদ)
অর্থ: হরিণ তার নিজের মাংসের জন্য নিজের শত্রু।
* হাঁড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী (৩৩ নং পদ)
অর্থ: হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ নিত্য অথিতি এসে ভিড় করে।
* দুহিল দুধ কি বেন্টে ষামায় (৩৩নং পদ)
অর্থ: দোয়ানো দুধ কী বাটে প্রবেশ করে।
* সরস ভণিন্ত বর সুণ গোহালী কিমো দুঠ্য বলন্দেঁ। (৩৯ নং পদ)
অর্থ: দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।
* আণ চাহন্তে আণ বিণঠা।
#রামায়ণ:
* পিঁপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে।
অর্থ: একটি বিশেষ সময়ে পিপীলিকার পাখা গজায়। অতপর তারা আলোর দিকে ছুটতে থাকে। এভাবে একসময় সে মারা যায়।
* দৈবের লিখন কভু না যাবে খন্ডন।
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* বামন হইয়া হাত বাড়াইলে চাঁদে।
অর্থ: বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানো। এমন কিছু আপনি পেতে চাইছেন যা পাওয়ার যোগ্য আপনি নন বা যা আপনার সাধ্যের বাইরে।
#মহাভারত:
* পরে নিন্দ নাহি দেখ ছিদ্র আপনার।
অর্থ: পরের নিন্দা কর অথচ নিজের দোষ চোখে পড়ে না।
* ব্যাগ্র নাহি জন্ম লয় মৃগীর উদরে।
অর্থ: মৃগীর গর্ভে কখনো বাঘের জন্ম হয় না। আম গাছে কখনো জাম/কাঁঠাল ধরে না এমন।
* অগ্নি, ব্যাধি, ঋণ- এ তিনের রেখো না চিন।
অর্থ: আগুন, অসুখ, ঋণ এ তিনটির চিহ্ন রাখা উচিত না। বা শেষ রাখা উচিত না, অবহেলা করে সামান্য রেখে দিলে পরে তা আরো বাড়তে পারে।
#শ্রীকৃষ্ণবিজয়:
* নির্ধন পুরুষের ভয় নাহিক সংসারে।
অর্থ: নেংটার নেই বাটপারের ভয় এর মত।
* কর্ণধার বিনে কবু নৌকা নাহি যায়।
অর্থ: কেউ হাল না ধরলে/কাজ না করলে আপনা আপনি কোন কিছু হবে না।
#মনসামঙ্গল:
* দৈবের নির্বন্ধ কভু খন্ডন না যায়
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* বিনে শুদ্ধিতে ঘরে গেলে লোকে না বলে।
অর্থ: বিনা শুদ্ধাচরে গৃহে প্রবেশ করলে লোকনিন্দার ভয় থাকে।
* বালকের মুখে যেন ঝুনা নারিকেল
কাকের মুখেতে যেন দেখি পাকা বেল।
অর্থ: কঠিন / অসম্ভব কিছু।
* বৈপত্ত্যের কালে কেহ নাহি মিলে সখা।
অর্থ: বিপদের সময় বন্ধু পাওয়া যায় না।
* বামন হৈয়া ধরিতে চাহ আকাশ।
অর্থ: যা সম্ভব না তা পেতে বা করতে চাওয়া।
#চন্ডীমঙ্গল:
* জন্ম লভিলে আছে অবশ্য মরণ।
অর্থ: জন্ম নিলে মৃত্যুবরণ করতে হবেই।
* দুগ্ধ দিয়া কেন পোষ কাল সাপ।
অর্থ: দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোষ ঠিক না বা বোকামি।
* আপনি রাখিলে রহে আপনার মান।
অর্থ: নিজের সম্মান নিজে রাখতে জানলে থাকে।
* দারিদ্রে কেহ না সম্ভোষে।
অর্থ: দরিদ্র মানুষকে কেউ ভালবাসতে/সমাদর করতে চায় না।
* উচিত কহিতে আমি সবাকার অরি।
অর্থ: উচিত কথা বলায় আমি সবার শত্রু/ অপ্রিয় সত্যভাষী মানুষকে কেউ পছন্দ করতে চায় না।
#শিবায়ন:
* গৃহস্থের ধর্ম্ম নহে শ্মশান নিবাস।
অর্থ: গৃহস্থের শ্মশানে বাস করা সাজে না।
#ধর্মমঙ্গল:
========
* অসত্য সমান পাপ নাহিক সংসারে।
অর্থ: পৃথিবীতে অসত্যের মত পাপ আর নেই।
#গোরক্ষবিজয়:
* শক্তি বিনে সৃষ্টি করে কার হেন শক্তি।
অর্থ: যোগ্যতা ছাড়া কেউ কিছু করতে পারে না।
#শূণ্যপুরাণ: (রামাই পন্ডিত) [এটি অন্ধকার যুগে লিখিত]
* আড়াঅ বাঘর ভঅ জলত কুম্ভীর।
অর্থ: উভয় সংকটে পড়া।
#পদ্মাবতী: (আলাওল)
পড়শী হইলে শত্রু গৃহে সুখ নাই
অর্থ: কাছের মানুষ শত্রু হলে ঘরে আর সুখ থাকে না।
#লায়লী মজনু (দৌলত উজির বাহরাম খান)
* কাকের মুখে যেন সিন্দুরিয়া আম।
অর্থ: অযোগ্য/অনুপযুক্ত লোকের অমূল্য ধনের অধিকারী হওয়া।
#দাশরথি রায়ের প্যাঁচালি:
* মুখে মধু, অন্তরে বিষ।
অর্থ: বাইরে একরকম ভিতরে অন্যরকম/ বাইরে ভাল আচরণ কিন্তু ভিতরে কপটতা।
* একে মনসা, তাতে ধুনোর গন্ধ
অর্থ: এমনিতে ক্ষিপ্ত তার উপরে ফোড়ন কাটা।
#গোপাল উড়ে:
* কাটা গায়ে নুনের ছিটে।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্টঅ
* পেটে নাই বিদ্যার অংশ, ক অক্ষর গো মাংস।
অর্থ: মুর্খ/নিরক্ষর।
* গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।
অর্থ: যা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই তার জন্য আগে থেকে আশা করে থাকা।
#প্রবোধচন্দ্রিকা: (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার)
* গড্ডলিকা প্রবাহ:
অর্থ: স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া।
#আলালের ঘরের দুলাল (প্যারিচাঁদ মিত্র/ টেকচাঁদ ঠাকুর)
* এর মুন্ডু ওর ঘাড়ে।
অর্থ: একের জিনিস অপরকে চাপানো।
* অরণ্যে রোদন করা।
অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।
#হুতোম প্যাঁচার নকশা (কালীপ্রসন্ন সিংহ)
* কঞ্চিতে বংশলোচন জন্মান।
অর্থ: হীন বংশে মহতের জন্মলাভ।
#সামাজিক রোগের কবিরাজী চিকিৱসা: (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
* পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে।
অর্থ: অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান।
#বিষাদসিন্ধু (মীর মোশাররফ হোসেন)
* বিড়াল তপস্বী।
অর্থ: লোভী ব্যক্তির সাধুতার ভাণ।
#হাটে হাড়ি ভাঙ্গা প্রবন্ধ (রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী)
* হাটে হাড়ি ভাঙ্গা।
অর্থ: গোপন কথা ফাঁস করা।
#ধর্ম্মঘট প্রবন্ধ (রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী)
* ঢাকে কাঠি পড়া।
অর্থ: কোন অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়া।
#অতির_গতি’ প্রবন্ধ: (বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* অতি দর্পে হত লঙ্কা।
অর্থ: অহংকার পতনের মূল।
* অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।
অর্থ: বেশি লোভ করা ভাল না।
* কথার ঢেঁকি কাজে ছাই।
অর্থ: কাজের পারদর্শী না অথব কথা বেশি বলে।
* অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক যেকোন কিছুতে বিশৃঙ্খলার কারণ হয়।
* অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
অর্থ: যারা অধিক ভক্তি দেখায় প্রকৃতপক্ষে তারা ভক্তিহীন।
* অতি বড় রুপসী না পায় বর/অতি বড় ঘরণী না পান ঘর।
#হবুচন্দ্ররাজার গবুচন্দ্রমন্ত্রী: (দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার)
====================
* হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী।
অর্থ: স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন রাজার নির্বোধ মন্ত্রী।
--------------
#কুলীনকুলসর্বস্ব (রামনারায়ন তর্করত্ন)
====================
* উত্তম-মধ্যম দেওয়া।
অর্থ: প্রহার করা।
--------------
#একেই কি বলে সভ্যতা: (মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* কুলোর বাতাস দিয়ে দূর করা।
অর্থ: চরম অপমান করে বের করে দেওয়া।
----------------
#বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ(মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* গতস্য শোচনা নাস্তি।
অর্থ: যা অতীত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা নিষ্প্রয়োজন।
---------------
#শর্মিষ্ঠা: (নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা।
অর্থ: পরের ক্ষতি করে নিজে লাভবান হওয়া।
----------------
#পদ্মাবতী(নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* বিষকুম্ভ, পয়োমুখম।
অর্থ: অন্তরে বিষ, মুখে মধু।
---------
#চলচ্চিত্ত-চঞ্চরি (ব্যাঙ্গনাটক, সুকুমার রায়)
====================
* ঢাক ঢাক গুড় গুড়।
অর্থ: কোন কিছু গোপন করার চেষ্টা।
---------------------
#নীলদর্পন: (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* কীটস্য কীট।
অর্থ: অতি নগণ্য ব্যক্তি
---------------
* ঠক বাঁচতে গা উজাড়
অর্থ: সাধু ব্যক্তি খোজে পাওয়া দায়।
---------------
* নিজের চরকায় তেল দেহ (দাও)।
অর্থ: অনধিকার চর্চায় সময় নষ্ট না করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা।
---------------
#জামাই বারিক (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* জোর যার মুল্লুক তার।
অর্থ: শক্তিবান বলপ্রয়োগে যা ইচ্ছা অধিকার করতে পারে।
------------------
#সধবার একাদশী (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অকাল কুষ্মান্ড।
অর্থ: অপদার্থ/ অযোগ্য ।
------------------
#লীলাবতী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* আকাশকুসুম
অর্থ: কাল্পনিক
#নবীন তপস্বিনী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসা। (বমি আসা)
অর্থ: ঘৃণাজনক পদার্থ।
----------------
#জনা (গিরিশচন্দ্র ঘোষ)
====================
* কান খাড়া করা।
অর্থ: একাগ্রভাবে শুনার জন্য অপেক্ষা করা।
------------------
#অলীকবাবু (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* বারোমাসে তের পার্বণ।
অর্থ: অনবরত উৎসব
-------------------
#নবযৌবন (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধান ভানতে শীবের গীত।
অর্থ: অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা।
------------------
#খাস দখল: (অমৃতলাল বসু)
====================
* চোরকে বলে চুরি করতে গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
অর্থ: দুই দিক বজায় রাখা।
----------------
#কালাপানি (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
অর্থ: বুদ্ধি দিয়ে বিনাকষ্টে কার্যসিদ্ধি।
#প্রতাপসিংহ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
====================
* এই মারে তো এই মারে।
অর্থ: ক্রোধান্বিত হয়ে কাউকে মারতে উদ্যত হওয়া।
--------------------
#চন্দগুপ্ত (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
============
* কার ঘাড়ে দুটো মাথা।
অর্থ: গুরু কার্যসম্পাদনে সু:সাহস করা।
--------------
#কিন্নরী (ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ)
==================
* কাঠবিড়ালের সাগর বাঁধা।
অর্থ: বৃহৎ কাজে সামান্য কারো সাধ্যমত সাহায্য।
------------------
#নীলকর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=====================
* গোদের উপর বিষফোঁড়া।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্ট।
-------------------
#দেহঘর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=============
* ভূতের বেগার খাঁটা।
অর্থ: অহেতুক পরিশ্রম করা।
----------------
#আত্মবিলাপ(ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
===============
* হাটেতে ভাঙ্গিয়া ভান্ড, কি খেলা খেলায় রে।
অর্থ: গোপন কথা প্রকাশ্যে বলে দেয়া।
----------------
#তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=================
* যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
অর্থ: রক্ষাকর্তার দ্বারা অনিষ্ট সাধন।
----------------
#ব্রজাঙ্গনা কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=======================
* মণিহারা ফণি।
অর্থ: ধন হারিয়ে শোকে আত্মহারা।
-------------
#বঙ্গসুন্দরী (বিহারীলাল চক্রবর্তী)
* ঝাল ঝাড়া।
অর্থ: রুঢ় কথা শুনিয়ে মনের জালা উপশম করা।
---------------
#সোনার তরী ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
* দিনে (দুপুরে) ডাকাতি।
অর্থ: দু:সাহসিক চুরি।
-----------------
#চিত্রা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পিত্ত জলে যাওয়া।
অর্থ: অতিশয় ক্রোধান্বিত হওয়া।
-----------------
#মানসী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=================
* কোমর বাঁধা।
অর্থ: অধিক আগ্রহ/সংকল্প নিয়ে কাজ করা।
-----------------
#চিঠি(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্য ধরলে সুফল পাওয়া যায়।
-------------------
#চিরকুমার সভা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* মধুরেণ সমাপয়েৎ।
অর্থ: সকল ক্ষেত্রে সমাপ্তি সুন্দর হওয়া বাঞ্চনীয়।
#পেটে ও পিঠে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পেটে খেলে পিঠে সয়।
অর্থ: একদিক দিয়ে লাভ হলে অন্যদিকে ক্ষতি সহ্য হয়।
-------------------
* রামরাজত্ব।
অর্থ: ন্যায়পরায়ন ধার্মিক রাজার সুখী রাজ্য।
--------------
#চার অধ্যায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
======================
* কনে দেখা মেঘ ।
অর্থ: গোধুলী লগ্নের সময় (উজ্জল আলোয় পাত্রী দেখার উপযুক্ত সময়)
------------------
#চোখের বালি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
#বেনাবনে (উলুবনে) মুক্তা ছড়ানো।
অর্থ: অস্থানে মূল্যবান কিছু রাখা (যার কোন সুফল নেই)।
-------------------
#গোরা(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
* মরার বাড়া গাল নেই।
অর্থ: চরম দুর্দশা অবস্থা (যার পর আর অধিক অমঙ্গল হতে পারে না)
----------------
#ছিন্নপত্র: (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* তুর্কি নাচন নাচা।
অর্থ: অস্থির অঙ্গচালনা।
------------------
#গল্পগুচ্ছ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=====================
* কানে মন্ত্র দেওয়া
অর্থ: কুপরামর্শ দেয়া।
#বাঁধন হারা (কাজী নজরুল)
=================
* চোরের উপর রাগ করে ভুঁয়ে ভাত খাওয়া।
অর্থ: পরের উপর রাগ মিটাতে নিজেকে কষ্ট দেওয়া।
--------------
#কুহেলিকা(কাজী নজরুল)
=================
* রক্ত হিম হওয়া।
অর্থ: আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া।
----------------
#সাতটি তারার তিমির (জীবনানন্দ দাশ)
===================
* ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
অর্থ: অধর্ম/অসত্য অপ্রকাশিত থাকে না।
----------------
#জনরব (অন্নদাশঙ্কর রায়)
=============
* কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ।
অর্থ: একজনের জন্য ভাল, অন্যজনের জন্য মন্দ।
-------------------
#নক্সী কাঁথার মাঠ (জসীম উদদীন)
====================
* শাঁখের করাত।
অর্খ: উভয় সংকট
#সোজন বাদিয়ার ঘাট (জসীম উদদীন)
=================
* সাত ঘাটের জল এক করা।
অর্থ: প্রবল শক্তি (নিয়ে কিছু করা।)
------------------
#চতুরঙ্গ (কবিতা, বিজন ভট্টাচার্য)
=====================
* নেড়া একবারই বেলতলায় যায়।
অর্থ: তিক্ত অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক করে।
-------------------
#নাকের বদলে নরুন পেলাম (কবিতা, সলিল চৌধুরী) ভ
=================
* ভিটেয় ঘুঘু চরানো।
অর্থ: সর্বনাশ করা। (কবিতার লাইন: আমার ভিটেয় চরলো ঘুঘু ডিম দিল তোমাকে)
------------------
#রঙ্গব্যাঙ্গ গল্প, (গৌরকিশোর ঘোষ)
================
* ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।
অর্থ: নিজের খেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজ করা।
-------------------
#মধ্যবিত্ত (কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্য)
=====================
* ভুঁইফোড় ।
অর্থ: হঠাৎ জেগে/বেড়ে উঠা।
------------------
#জল তবুও (কবিতা, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)
=================
* যত গর্জে তত বর্ষে না।
অর্থ: মিথ্যা আস্ফালন।
---------------
#এসো বর্ষা আলগোছে পা ফেলে। (কবিতা, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)
=====================
* মতিভ্রম।
অর্থ: ভুলপথে যাওয়া।
--------------------
#শামসুর রহমানের একটি কবিতায় ব্যবহ্রত:
===================
* সাপের পাঁচ পা দেখা।
অর্থ: অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা।
----------------
#বিজলীবালার মুক্তি (গল্প, মতি নন্দী)
=========================
* মড়া কখনও ভোঁস ভোঁস করে ঘুমায় না।
অর্থ: অসম্ভব।
-------------------------
#বুড়ো লোকটি (গল্প, মতি নন্দী)
=============
* শকুনের চোখ থাকে ভাগাড়ের দিকে।
অর্থ: যার যে জিনিসের প্রতি লোভ সে সেটির দিকে ছোটে।
----------------
#বিষবৃক্ষ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===============
* আসন টলা (উদা: “কমলমণি! তুমি বই/বিনে আমার কেহ নাই! একবার এসো”, শুনিয়া কমলমণির আসন টলিল)
অর্থ: কৃপাপ্রার্থীর জন্য চিত্ত চঞ্চল হওয়া।
* মাছ মরেছে, বিড়াল কান্দে।
অর্থ: কপট শোক (মাছের মার পুত্র শোক/ কুমিরের কান্না))
#কৃষ্ণকান্তের উইল (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
====================
* রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়,
উলু খাগড়ার প্রাণ যায়।।
অর্থ: প্রধান ব্যক্তির স্বার্থের দ্বন্দে সাধারণ মানুষের ক্ষতি।
----------------
#রাজসিংহ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===================
* বৃদ্ধস্য তরুণী বিষম।
অর্থ: তরুণীর সংসর্গ বয়স্ক পুরুষের জন্য অনিষ্টকর।
----------------
#সীতারাম (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
=======================
* যার কর্ম তারে সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে।
অর্থ: অভ্যস্ত লোকের পক্ষে যে কাজ সহজ, অন্যের জন্য তা কঠিন।
--------------------
#ইন্দিরা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===============
* ছেঁদো কথা।
অর্থ: কৌশলপূর্ণ সুন্দরভাবে সাজানো কথা/বাক্য। (সরাসরি না বলে কৌশলে কোন কথা ঘুরিয়ে বলা)
-----------------
* ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
অর্থ: টাকা থাকলে অনুচরের অভাব হয় না।
* পোয়াবারো (/সশরীরে স্বর্গলাভ )
অর্থ: আশাতীত সৌভাগ্য।
(*বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর লেখায় প্রাপ্ত আরো কয়েকটি- * অন্ধকারে ঢিল ছোড়া (আন্দাজে কিছু করা), আড়মোড়া ভাঙ্গা (আলস্য ত্যাগ),
-------------------
#পালামৌ (সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধায়)
===================
* জল স্পর্শ না করা।
অর্থ: অল্প আহারও না করা।
---------------
#স্বর্ণলতা (তারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়)
=================
* হাড় এক জায়গায় মাস (মাংস) এক জায়গায় করা। (/ উত্তম মধ্যম।)
অর্থ: বেদম প্রহার করা।
-------------------
#কজ্জলী (রাজশেখর বসু/ পরশুরাম)
=================
* লাই দিলে কুকুর মাথায় উঠে।
অর্থ: নীচ ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দিলে শেষে অসম্মান করে।
-------------------
#রমাসুন্দরী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়)
===================
* আঁকু পাঁকু করা।
অর্থ: অতি উদ্বেগে ছটফটানি।
-------------
#শ্রীকান্ত (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
==================
* কা-কস্য পরিবেদনা।
অর্থ: কারও প্রতি কারও সমবেদনা না থাকা। (শত সমস্যায় মানুষ পর্যুদস্ত, কিন্তু কা-কস্য পরিবেদনা!! নেতারা যে যার আখের গোছাচ্ছেন)
---------------
#চরিত্রহীন(শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
====================
* কামিনী-কাঞ্চন
অর্থ: ইন্দ্রীয় সুখের প্রধান উপকরণ নারী ও ধন।
--------------------
#দত্তা (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
==============
* তালপাতার সেপাই।
অর্থ: অতিশয় রোগা/ক্ষীণজীবি লোক।
-------------------
#পল্লীসমাজ (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
================
* আড়ালে রাজার মাকেও ডাইন বলে।
অর্থ: ভয়ে সামনাসামনি কিছু না বললেও অসাক্ষাতে নিন্দা করা।
-------------------
#শুভদা (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===================
* কাটলেও রক্ত নেই, কুটলেও মাংস নেই।
অর্থ: এমন সঙ্গতিহীন যে তা থেকে কিছু আদায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
---------------
#দুই তার (চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়)
================
* অগস্ত্যা যাত্রা।
অর্থ: চিরকালের জন্য বিদায়/ প্রস্থান
-----------------
#রসকলি (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
=================
* অনভ্যাসের ফোঁটা, কপাল চড়চড় করে।
অর্থ: অনভ্যস্ত অবস্থায় কিছু করা কষ্টকর।
-------------------
#কালিন্দী (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
===================
* অধিকন্তু ন দোষায়।
অর্থ: অধিক হলে ক্ষতি নেই। (সে বলেছে আর পড়ার দরকার নেই, কিন্তু আমি অধিকন্তু ন দোষায় ভেবে আরেকবার পড়তে বললাম)
------------------
#বেদেনি (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
=================
* কারে পড়িলে বাঘা ফড়িংও খায়।
অর্থ: বিপদের সময় হিতাহিত জ্ঞান/বিচার লোপ পায়।
-------------------
#রায়বাড়ী (গিরিবালা দেবী)
==============
* ঢেঁকিকে বুঝাব কত, নিত্য ধান ভানে।
অর্থ: যার যা কাজ সে তাই করতে থাকে (বুঝিয়ে লাভ নেই)
------------------
#পথের পাঁচালী (বিভূতীভূষণ বন্দোপাধ্যায়)
==================
* কুটো নাড়া (বা, কুটোগাছ ভেঙ্গে দুখান করা)
অর্থ: অতিশয় কর্মবিমুখ
*লেখকের আরো কয়েকটি- আকাশ থেকে পড়া/বিনা মেঘে বজ্রপাত (অপ্রত্যাশিত ঘটনা), আকাশ-পাতাল (অসংলগ্ন)
---------------------
#স্বর্গাদপি গরিয়সী (বিভূতীভূষণ মুখোপাধায়)
================
* আসলের চেয়ে সুদ মিষ্টি।
অর্থ: মূল বস্তু অপেক্ষা উৎপন্ন বস্তু অধিক প্রিয়।
------------------
#জঙ্গম (বলাইচাঁদ মুখোপ্যাধ্যায় / বনফুল)
===================
* উপর চালাক।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত চালাকি করে যে।
------------------
#কাঁচামিঠা (শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়)
================
* অরসিকেষু রসস্য নিবেদনম।
অর্থ: যার রসজ্ঞান নেই তাকে বুঝানো বৃথা।
#নবীনযাত্রা (মনোজ বসু)
=================
* ঢাকাই সাক্ষী
অর্থ: কারো দোষ ঢাকবার জন্য প্রদত্ত বিবৃতি।
----------------
#আকস্মিক (অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত)
====================
* অষ্টরম্ভা
অর্থ: ব্যর্থতা।
-------------
#দেশেবিদেশে (সৈয়দ মুজতবা আলী)
===================
* রথ দেখা কলা বেচা (এক ঢিলে দুই পাখি)
অর্থ: এক কাজের সঙ্গে আরেক কাজ সেরে নেওয়া।
----------------
#শৃঙ্খল (প্রেমেন্দ্র মিত্র)
===============
* দা-দেইজি।
অর্থ: নিকট আত্মীয়।
--------------
#জাগরী (সতীনাথ ভাদুড়ী)
=================
* অঙ্গার মতধৌতের মলিনত্বং ন মুঞ্চতি। (কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।
অর্থ: স্বভাবের পরিবর্তন সহজে হয় না।
#অতসীমামী (মানিক বন্দোপাধ্যায়)
===============
* কলা-বউ
অর্থ: অতিশয় লজ্জাশীলা নারী। (এতদিনের পরিচয়!!! এখনো কেন কলাবউ সাজ? )
----------------
#পদ্মানদীর মাঝি (মানিক বন্দোপাধ্যায়)
===================
* মাছের তেলে মাছ ভাজা (কইয়ের তেলে কই ভাজা)
অর্থ: বিনা/সামান্য ব্যয়ে কার্যসিদ্ধি করা।
#পাতাচাপা গল্প (আশাপূর্ণা দেবী)
==================
* আলুথালু
অর্থ: অগোছালো / অবিন্যস্ত
#তিতাস একটি নদীর নাম (অদ্বৈত মল্লবর্মণ)
====================
* কুরুক্ষেত্র ঘটানো
অর্থ: নিদারুণ কলহের সূত্রপাত।
১। আটে-পিটে ধরো, তবে ঘোড়ার উপরে চড়ো : যোগ্যতা অর্জন করে কাজ আরম্ভ করা
২। আঠার পর্ব মহাভারত : দীর্ঘ কাহিনী
৩। আটখানার পাটখানা : নানা কর্তব্যের মাঝে একটি
৪। আয়নাতে মুখ দেখা : আত্মসমালোচনা করা
৫। ঈগল স্বভাব : হিংস্র প্রকৃতির
৬। আড়াই অক্ষরে : অল্প কথায়
৭। আথিবিথি : তাড়াতাড়ি
৮। আদাড়ের হাড়ি : অনাদৃত ব্যক্তি
৯। আমড়া করা : কোন কিছু করতে না পারা
১০। আমড়া গাছি করা : অযথা প্রশংসা করা
১১। আমড়াভাতে করা : সৌন্দর্যহীন করা
১২। আপ্ত শ্রুতি : কিংবদন্তী
১৩। আপ্ত-গরজি : স্বার্থপর
১৪। আষাঢ়ান্ত বেলা : দীর্ঘস্থায়ী সময়
১৫। আয়নায় মুখ দেখা : যে যেমন, তার সাথে তেমন করা।
১৬। আল-টপকা : আচমকা
১৭। আলী মেজাজ : উন্নত মন
১৮। আগাপাছতলা : আদ্যন্ত
১৯। আরশিতে পড়শি দেখা : নিজের মত করে অন্যকে দেখা
২০। আটুনি কষুনি সার : কেবল আড়ম্বর মাত্র।
.
#প্রবাদ-প্রবচন :
১। বামন গেল ঘর, তো লাঙ্গল তুলে ধর : কর্তাব্যক্তির অনুপস্থিতিতে কাজে ফাকি দেয়া
২। বারো হাত কাকুড়ের তেরো হাত বিচি : সাধ্যের অতিরিক্ত দর্প
৩। বিষ নাই তার কুলোপানা চক্কর : অক্ষম ব্যক্তির বৃথা আস্ফালন
৪। ভাগের মা গঙ্গা পায় না : ভাগাভাগির কাজ বেশিরভাগই পন্ড হয়ে যায়
৫। ভোজনং যত্র তত্র, শয়নং হট্টমন্দিরং : ছন্নছাড়া জীবন
৬। গতস্য শোচনা নাস্তি : অতীত নিয়ে না ভাবা
৭। ঘরে ছুচোর কেত্তন, বাইরে কোচার পত্তন : গরিব লোকের বড়লোকি চাল
৮। চোর মরে সাত ঘর মজায়ে : খারাপ ব্যক্তি অন্যকে বিপদে পড়লে অন্যকেও সাথে জড়ায়
৯। চূড়ার ওপর ময়ূর পাখা : সোনায় সোহাগা
১০। চাল না চুলো, ঢেকি না কুলো : নিতান্ত দরিদ্রতা
১১। ঢাকের বাদ্য থামলেই মিষ্টি : দুঃসময় পেরিয়ে ভাল সময়ের আগমন
১২। নাইরে তাইরে না : উদ্দেশ্যহীন ভাবে সময় নষ্ট করা
১৩। ধোপা-নাপিত বন্ধ : একঘরে করা
১৪। নরম মাটি বিড়াল আচড়ায় লোকে ভাল মানুষকে কষ্ট দেয়
১৫। পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে : বিপদে পড়লে মানুষ স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ করতে বাধ্য হয়।
১৬। চড়কে কাঠি পড়া : কলহের সূত্রপাত হওয়া
১৭। ঝোলের লাউ, অম্বলের কদু : যে ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির জন্য সকলের মন জুগিয়ে চলে
১৮। ঝাল মরিচের লাল চামড়া : দুর্জনও দেখতে সুন্দর হতে পারে
১৯। টোপ গিলে না, ঠোকরায় : ছলনা করে
২০। ডোবা দেখলেই ব্যাঙ লাফায় : প্রিয় বস্তু দেখে আনন্দ।
#‘অতির গতি’ প্রবন্ধ: (বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* অতি দর্পে হত লঙ্কা।
অর্থ: অহংকার পতনের মূল।
* অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।
অর্থ: বেশি লোভ করা ভাল না।
* কথার ঢেঁকি কাজে ছাই।
অর্থ: কাজের পারদর্শী না অথব কথা বেশি বলে।
* অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক যেকোন কিছুতে বিশৃঙ্খলার কারণ হয়।
* অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
অর্থ: যারা অধিক ভক্তি দেখায় প্রকৃতপক্ষে তারা ভক্তিহীন।
* অতি বড় রুপসী না পায় বর/অতি বড় ঘরণী না পান ঘর।
#হবুচন্দ্ররাজার গবুচন্দ্রমন্ত্রী: (দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার)
====================
* হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী।
অর্থ: স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন রাজার নির্বোধ মন্ত্রী।
--------------
#কুলীনকুলসর্বস্ব (রামনারায়ন তর্করত্ন)
====================
* উত্তম-মধ্যম দেওয়া।
অর্থ: প্রহার করা।
--------------
#একেই কি বলে সভ্যতা: (মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* কুলোর বাতাস দিয়ে দূর করা।
অর্থ: চরম অপমান করে বের করে দেওয়া।
----------------
#বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ(মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* গতস্য শোচনা নাস্তি।
অর্থ: যা অতীত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা নিষ্প্রয়োজন।
---------------
#শর্মিষ্ঠা: (নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা।
অর্থ: পরের ক্ষতি করে নিজে লাভবান হওয়া।
----------------
#পদ্মাবতী(নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* বিষকুম্ভ, পয়োমুখম।
অর্থ: অন্তরে বিষ, মুখে মধু।
---------
#চলচ্চিত্ত-চঞ্চরি (ব্যাঙ্গনাটক, সুকুমার রায়)
====================
* ঢাক ঢাক গুড় গুড়।
অর্থ: কোন কিছু গোপন করার চেষ্টা।
---------------------
#নীলদর্পন: (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* কীটস্য কীট।
অর্থ: অতি নগণ্য ব্যক্তি
---------------
* ঠক বাঁচতে গা উজাড়
অর্থ: সাধু ব্যক্তি খোজে পাওয়া দায়।
---------------
* নিজের চরকায় তেল দেহ (দাও)।
অর্থ: অনধিকার চর্চায় সময় নষ্ট না করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা।
---------------
#জামাই বারিক (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* জোর যার মুল্লুক তার।
অর্থ: শক্তিবান বলপ্রয়োগে যা ইচ্ছা অধিকার করতে পারে।
------------------
#সধবার একাদশী (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অকাল কুষ্মান্ড।
অর্থ: অপদার্থ/ অযোগ্য ।
------------------
#লীলাবতী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* আকাশকুসুম
অর্থ: কাল্পনিক
#নবীন তপস্বিনী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসা। (বমি আসা)
অর্থ: ঘৃণাজনক পদার্থ।
----------------
#জনা (গিরিশচন্দ্র ঘোষ)
====================
* কান খাড়া করা।
অর্থ: একাগ্রভাবে শুনার জন্য অপেক্ষা করা।
------------------
#অলীকবাবু (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* বারোমাসে তের পার্বণ।
অর্থ: অনবরত উৎসব
-------------------
#নবযৌবন (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধান ভানতে শীবের গীত।
অর্থ: অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা।
------------------
#খাস দখল: (অমৃতলাল বসু)
====================
* চোরকে বলে চুরি করতে গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
অর্থ: দুই দিক বজায় রাখা।
----------------
#কালাপানি (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
অর্থ: বুদ্ধি দিয়ে বিনাকষ্টে কার্যসিদ্ধি।
#প্রতাপসিংহ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
====================
* এই মারে তো এই মারে।
অর্থ: ক্রোধান্বিত হয়ে কাউকে মারতে উদ্যত হওয়া।
--------------------
#চন্দগুপ্ত (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
============
* কার ঘাড়ে দুটো মাথা।
অর্থ: গুরু কার্যসম্পাদনে সু:সাহস করা।
--------------
#কিন্নরী (ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ)
==================
* কাঠবিড়ালের সাগর বাঁধা।
অর্থ: বৃহৎ কাজে সামান্য কারো সাধ্যমত সাহায্য।
------------------
#নীলকর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=====================
* গোদের উপর বিষফোঁড়া।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্ট।
-------------------
#দেহঘর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=============
* ভূতের বেগার খাঁটা।
অর্থ: অহেতুক পরিশ্রম করা।
----------------
#আত্মবিলাপ(ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
===============
* হাটেতে ভাঙ্গিয়া ভান্ড, কি খেলা খেলায় রে।
অর্থ: গোপন কথা প্রকাশ্যে বলে দেয়া।
----------------
#তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=================
* যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
অর্থ: রক্ষাকর্তার দ্বারা অনিষ্ট সাধন।
----------------
#ব্রজাঙ্গনা কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=======================
* মণিহারা ফণি।
অর্থ: ধন হারিয়ে শোকে আত্মহারা।
-------------
#বঙ্গসুন্দরী (বিহারীলাল চক্রবর্তী)
* ঝাল ঝাড়া।
অর্থ: রুঢ় কথা শুনিয়ে মনের জালা উপশম করা।
---------------
#সোনার তরী ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
* দিনে (দুপুরে) ডাকাতি।
অর্থ: দু:সাহসিক চুরি।
-----------------
#চিত্রা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পিত্ত জলে যাওয়া।
অর্থ: অতিশয় ক্রোধান্বিত হওয়া।
-----------------
#মানসী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=================
* কোমর বাঁধা।
অর্থ: অধিক আগ্রহ/সংকল্প নিয়ে কাজ করা।
-----------------
#চিঠি(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্য ধরলে সুফল পাওয়া যায়।
-------------------
#চিরকুমার সভা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* মধুরেণ সমাপয়েৎ।
অর্থ: সকল ক্ষেত্রে সমাপ্তি সুন্দর হওয়া বাঞ্চনীয়।
#পেটে ও পিঠে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পেটে খেলে পিঠে সয়।
অর্থ: একদিক দিয়ে লাভ হলে অন্যদিকে ক্ষতি সহ্য হয়।
-------------------
* রামরাজত্ব।
অর্থ: ন্যায়পরায়ন ধার্মিক রাজার সুখী রাজ্য।
--------------
#চার অধ্যায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
======================
* কনে দেখা মেঘ ।
অর্থ: গোধুলী লগ্নের সময় (উজ্জল আলোয় পাত্রী দেখার উপযুক্ত সময়)
------------------
#চোখের বালি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
#বেনাবনে (উলুবনে) মুক্তা ছড়ানো।
অর্থ: অস্থানে মূল্যবান কিছু রাখা (যার কোন সুফল নেই)।
-------------------
#গোরা(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
* মরার বাড়া গাল নেই।
অর্থ: চরম দুর্দশা অবস্থা (যার পর আর অধিক অমঙ্গল হতে পারে না)
----------------
#ছিন্নপত্র: (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* তুর্কি নাচন নাচা।
অর্থ: অস্থির অঙ্গচালনা।
------------------
#গল্পগুচ্ছ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=====================
* কানে মন্ত্র দেওয়া
অর্থ: কুপরামর্শ দেয়া।
============================
অর্থ: হাতের কঙ্কণ আছে কিনা তা দেখার জন্য তো আর আয়না/দর্পনে দেখতে হয় না।
* আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী (৬নং পদ)
অর্থ: হরিণ তার নিজের মাংসের জন্য নিজের শত্রু।
* হাঁড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী (৩৩ নং পদ)
অর্থ: হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ নিত্য অথিতি এসে ভিড় করে।
* দুহিল দুধ কি বেন্টে ষামায় (৩৩নং পদ)
অর্থ: দোয়ানো দুধ কী বাটে প্রবেশ করে।
* সরস ভণিন্ত বর সুণ গোহালী কিমো দুঠ্য বলন্দেঁ। (৩৯ নং পদ)
অর্থ: দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।
* আণ চাহন্তে আণ বিণঠা।
#রামায়ণ:
* পিঁপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে।
অর্থ: একটি বিশেষ সময়ে পিপীলিকার পাখা গজায়। অতপর তারা আলোর দিকে ছুটতে থাকে। এভাবে একসময় সে মারা যায়।
* দৈবের লিখন কভু না যাবে খন্ডন।
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* বামন হইয়া হাত বাড়াইলে চাঁদে।
অর্থ: বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানো। এমন কিছু আপনি পেতে চাইছেন যা পাওয়ার যোগ্য আপনি নন বা যা আপনার সাধ্যের বাইরে।
#মহাভারত:
* পরে নিন্দ নাহি দেখ ছিদ্র আপনার।
অর্থ: পরের নিন্দা কর অথচ নিজের দোষ চোখে পড়ে না।
* ব্যাগ্র নাহি জন্ম লয় মৃগীর উদরে।
অর্থ: মৃগীর গর্ভে কখনো বাঘের জন্ম হয় না। আম গাছে কখনো জাম/কাঁঠাল ধরে না এমন।
* অগ্নি, ব্যাধি, ঋণ- এ তিনের রেখো না চিন।
অর্থ: আগুন, অসুখ, ঋণ এ তিনটির চিহ্ন রাখা উচিত না। বা শেষ রাখা উচিত না, অবহেলা করে সামান্য রেখে দিলে পরে তা আরো বাড়তে পারে।
#শ্রীকৃষ্ণবিজয়:
* নির্ধন পুরুষের ভয় নাহিক সংসারে।
অর্থ: নেংটার নেই বাটপারের ভয় এর মত।
* কর্ণধার বিনে কবু নৌকা নাহি যায়।
অর্থ: কেউ হাল না ধরলে/কাজ না করলে আপনা আপনি কোন কিছু হবে না।
#মনসামঙ্গল:
* দৈবের নির্বন্ধ কভু খন্ডন না যায়
অর্থ: ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।
* বিনে শুদ্ধিতে ঘরে গেলে লোকে না বলে।
অর্থ: বিনা শুদ্ধাচরে গৃহে প্রবেশ করলে লোকনিন্দার ভয় থাকে।
* বালকের মুখে যেন ঝুনা নারিকেল
কাকের মুখেতে যেন দেখি পাকা বেল।
অর্থ: কঠিন / অসম্ভব কিছু।
* বৈপত্ত্যের কালে কেহ নাহি মিলে সখা।
অর্থ: বিপদের সময় বন্ধু পাওয়া যায় না।
* বামন হৈয়া ধরিতে চাহ আকাশ।
অর্থ: যা সম্ভব না তা পেতে বা করতে চাওয়া।
#চন্ডীমঙ্গল:
* জন্ম লভিলে আছে অবশ্য মরণ।
অর্থ: জন্ম নিলে মৃত্যুবরণ করতে হবেই।
* দুগ্ধ দিয়া কেন পোষ কাল সাপ।
অর্থ: দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোষ ঠিক না বা বোকামি।
* আপনি রাখিলে রহে আপনার মান।
অর্থ: নিজের সম্মান নিজে রাখতে জানলে থাকে।
* দারিদ্রে কেহ না সম্ভোষে।
অর্থ: দরিদ্র মানুষকে কেউ ভালবাসতে/সমাদর করতে চায় না।
* উচিত কহিতে আমি সবাকার অরি।
অর্থ: উচিত কথা বলায় আমি সবার শত্রু/ অপ্রিয় সত্যভাষী মানুষকে কেউ পছন্দ করতে চায় না।
#শিবায়ন:
* গৃহস্থের ধর্ম্ম নহে শ্মশান নিবাস।
অর্থ: গৃহস্থের শ্মশানে বাস করা সাজে না।
#ধর্মমঙ্গল:
========
* অসত্য সমান পাপ নাহিক সংসারে।
অর্থ: পৃথিবীতে অসত্যের মত পাপ আর নেই।
#গোরক্ষবিজয়:
* শক্তি বিনে সৃষ্টি করে কার হেন শক্তি।
অর্থ: যোগ্যতা ছাড়া কেউ কিছু করতে পারে না।
#শূণ্যপুরাণ: (রামাই পন্ডিত) [এটি অন্ধকার যুগে লিখিত]
* আড়াঅ বাঘর ভঅ জলত কুম্ভীর।
অর্থ: উভয় সংকটে পড়া।
#পদ্মাবতী: (আলাওল)
পড়শী হইলে শত্রু গৃহে সুখ নাই
অর্থ: কাছের মানুষ শত্রু হলে ঘরে আর সুখ থাকে না।
#লায়লী মজনু (দৌলত উজির বাহরাম খান)
* কাকের মুখে যেন সিন্দুরিয়া আম।
অর্থ: অযোগ্য/অনুপযুক্ত লোকের অমূল্য ধনের অধিকারী হওয়া।
#দাশরথি রায়ের প্যাঁচালি:
* মুখে মধু, অন্তরে বিষ।
অর্থ: বাইরে একরকম ভিতরে অন্যরকম/ বাইরে ভাল আচরণ কিন্তু ভিতরে কপটতা।
* একে মনসা, তাতে ধুনোর গন্ধ
অর্থ: এমনিতে ক্ষিপ্ত তার উপরে ফোড়ন কাটা।
#গোপাল উড়ে:
* কাটা গায়ে নুনের ছিটে।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্টঅ
* পেটে নাই বিদ্যার অংশ, ক অক্ষর গো মাংস।
অর্থ: মুর্খ/নিরক্ষর।
* গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।
অর্থ: যা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই তার জন্য আগে থেকে আশা করে থাকা।
#প্রবোধচন্দ্রিকা: (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার)
* গড্ডলিকা প্রবাহ:
অর্থ: স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া।
#আলালের ঘরের দুলাল (প্যারিচাঁদ মিত্র/ টেকচাঁদ ঠাকুর)
* এর মুন্ডু ওর ঘাড়ে।
অর্থ: একের জিনিস অপরকে চাপানো।
* অরণ্যে রোদন করা।
অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।
#হুতোম প্যাঁচার নকশা (কালীপ্রসন্ন সিংহ)
* কঞ্চিতে বংশলোচন জন্মান।
অর্থ: হীন বংশে মহতের জন্মলাভ।
#সামাজিক রোগের কবিরাজী চিকিৱসা: (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
* পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে।
অর্থ: অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান।
#বিষাদসিন্ধু (মীর মোশাররফ হোসেন)
* বিড়াল তপস্বী।
অর্থ: লোভী ব্যক্তির সাধুতার ভাণ।
#হাটে হাড়ি ভাঙ্গা প্রবন্ধ (রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী)
* হাটে হাড়ি ভাঙ্গা।
অর্থ: গোপন কথা ফাঁস করা।
#ধর্ম্মঘট প্রবন্ধ (রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী)
* ঢাকে কাঠি পড়া।
অর্থ: কোন অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়া।
#অতির_গতি’ প্রবন্ধ: (বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* অতি দর্পে হত লঙ্কা।
অর্থ: অহংকার পতনের মূল।
* অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।
অর্থ: বেশি লোভ করা ভাল না।
* কথার ঢেঁকি কাজে ছাই।
অর্থ: কাজের পারদর্শী না অথব কথা বেশি বলে।
* অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক যেকোন কিছুতে বিশৃঙ্খলার কারণ হয়।
* অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
অর্থ: যারা অধিক ভক্তি দেখায় প্রকৃতপক্ষে তারা ভক্তিহীন।
* অতি বড় রুপসী না পায় বর/অতি বড় ঘরণী না পান ঘর।
#হবুচন্দ্ররাজার গবুচন্দ্রমন্ত্রী: (দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার)
====================
* হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী।
অর্থ: স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন রাজার নির্বোধ মন্ত্রী।
--------------
#কুলীনকুলসর্বস্ব (রামনারায়ন তর্করত্ন)
====================
* উত্তম-মধ্যম দেওয়া।
অর্থ: প্রহার করা।
--------------
#একেই কি বলে সভ্যতা: (মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* কুলোর বাতাস দিয়ে দূর করা।
অর্থ: চরম অপমান করে বের করে দেওয়া।
----------------
#বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ(মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* গতস্য শোচনা নাস্তি।
অর্থ: যা অতীত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা নিষ্প্রয়োজন।
---------------
#শর্মিষ্ঠা: (নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা।
অর্থ: পরের ক্ষতি করে নিজে লাভবান হওয়া।
----------------
#পদ্মাবতী(নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* বিষকুম্ভ, পয়োমুখম।
অর্থ: অন্তরে বিষ, মুখে মধু।
---------
#চলচ্চিত্ত-চঞ্চরি (ব্যাঙ্গনাটক, সুকুমার রায়)
====================
* ঢাক ঢাক গুড় গুড়।
অর্থ: কোন কিছু গোপন করার চেষ্টা।
---------------------
#নীলদর্পন: (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* কীটস্য কীট।
অর্থ: অতি নগণ্য ব্যক্তি
---------------
* ঠক বাঁচতে গা উজাড়
অর্থ: সাধু ব্যক্তি খোজে পাওয়া দায়।
---------------
* নিজের চরকায় তেল দেহ (দাও)।
অর্থ: অনধিকার চর্চায় সময় নষ্ট না করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা।
---------------
#জামাই বারিক (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* জোর যার মুল্লুক তার।
অর্থ: শক্তিবান বলপ্রয়োগে যা ইচ্ছা অধিকার করতে পারে।
------------------
#সধবার একাদশী (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অকাল কুষ্মান্ড।
অর্থ: অপদার্থ/ অযোগ্য ।
------------------
#লীলাবতী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* আকাশকুসুম
অর্থ: কাল্পনিক
#নবীন তপস্বিনী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসা। (বমি আসা)
অর্থ: ঘৃণাজনক পদার্থ।
----------------
#জনা (গিরিশচন্দ্র ঘোষ)
====================
* কান খাড়া করা।
অর্থ: একাগ্রভাবে শুনার জন্য অপেক্ষা করা।
------------------
#অলীকবাবু (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* বারোমাসে তের পার্বণ।
অর্থ: অনবরত উৎসব
-------------------
#নবযৌবন (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধান ভানতে শীবের গীত।
অর্থ: অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা।
------------------
#খাস দখল: (অমৃতলাল বসু)
====================
* চোরকে বলে চুরি করতে গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
অর্থ: দুই দিক বজায় রাখা।
----------------
#কালাপানি (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
অর্থ: বুদ্ধি দিয়ে বিনাকষ্টে কার্যসিদ্ধি।
#প্রতাপসিংহ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
====================
* এই মারে তো এই মারে।
অর্থ: ক্রোধান্বিত হয়ে কাউকে মারতে উদ্যত হওয়া।
--------------------
#চন্দগুপ্ত (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
============
* কার ঘাড়ে দুটো মাথা।
অর্থ: গুরু কার্যসম্পাদনে সু:সাহস করা।
--------------
#কিন্নরী (ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ)
==================
* কাঠবিড়ালের সাগর বাঁধা।
অর্থ: বৃহৎ কাজে সামান্য কারো সাধ্যমত সাহায্য।
------------------
#নীলকর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=====================
* গোদের উপর বিষফোঁড়া।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্ট।
-------------------
#দেহঘর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=============
* ভূতের বেগার খাঁটা।
অর্থ: অহেতুক পরিশ্রম করা।
----------------
#আত্মবিলাপ(ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
===============
* হাটেতে ভাঙ্গিয়া ভান্ড, কি খেলা খেলায় রে।
অর্থ: গোপন কথা প্রকাশ্যে বলে দেয়া।
----------------
#তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=================
* যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
অর্থ: রক্ষাকর্তার দ্বারা অনিষ্ট সাধন।
----------------
#ব্রজাঙ্গনা কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=======================
* মণিহারা ফণি।
অর্থ: ধন হারিয়ে শোকে আত্মহারা।
-------------
#বঙ্গসুন্দরী (বিহারীলাল চক্রবর্তী)
* ঝাল ঝাড়া।
অর্থ: রুঢ় কথা শুনিয়ে মনের জালা উপশম করা।
---------------
#সোনার তরী ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
* দিনে (দুপুরে) ডাকাতি।
অর্থ: দু:সাহসিক চুরি।
-----------------
#চিত্রা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পিত্ত জলে যাওয়া।
অর্থ: অতিশয় ক্রোধান্বিত হওয়া।
-----------------
#মানসী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=================
* কোমর বাঁধা।
অর্থ: অধিক আগ্রহ/সংকল্প নিয়ে কাজ করা।
-----------------
#চিঠি(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্য ধরলে সুফল পাওয়া যায়।
-------------------
#চিরকুমার সভা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* মধুরেণ সমাপয়েৎ।
অর্থ: সকল ক্ষেত্রে সমাপ্তি সুন্দর হওয়া বাঞ্চনীয়।
#পেটে ও পিঠে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পেটে খেলে পিঠে সয়।
অর্থ: একদিক দিয়ে লাভ হলে অন্যদিকে ক্ষতি সহ্য হয়।
-------------------
* রামরাজত্ব।
অর্থ: ন্যায়পরায়ন ধার্মিক রাজার সুখী রাজ্য।
--------------
#চার অধ্যায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
======================
* কনে দেখা মেঘ ।
অর্থ: গোধুলী লগ্নের সময় (উজ্জল আলোয় পাত্রী দেখার উপযুক্ত সময়)
------------------
#চোখের বালি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
#বেনাবনে (উলুবনে) মুক্তা ছড়ানো।
অর্থ: অস্থানে মূল্যবান কিছু রাখা (যার কোন সুফল নেই)।
-------------------
#গোরা(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
* মরার বাড়া গাল নেই।
অর্থ: চরম দুর্দশা অবস্থা (যার পর আর অধিক অমঙ্গল হতে পারে না)
----------------
#ছিন্নপত্র: (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* তুর্কি নাচন নাচা।
অর্থ: অস্থির অঙ্গচালনা।
------------------
#গল্পগুচ্ছ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=====================
* কানে মন্ত্র দেওয়া
অর্থ: কুপরামর্শ দেয়া।
#বাঁধন হারা (কাজী নজরুল)
=================
* চোরের উপর রাগ করে ভুঁয়ে ভাত খাওয়া।
অর্থ: পরের উপর রাগ মিটাতে নিজেকে কষ্ট দেওয়া।
--------------
#কুহেলিকা(কাজী নজরুল)
=================
* রক্ত হিম হওয়া।
অর্থ: আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া।
----------------
#সাতটি তারার তিমির (জীবনানন্দ দাশ)
===================
* ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
অর্থ: অধর্ম/অসত্য অপ্রকাশিত থাকে না।
----------------
#জনরব (অন্নদাশঙ্কর রায়)
=============
* কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ।
অর্থ: একজনের জন্য ভাল, অন্যজনের জন্য মন্দ।
-------------------
#নক্সী কাঁথার মাঠ (জসীম উদদীন)
====================
* শাঁখের করাত।
অর্খ: উভয় সংকট
#সোজন বাদিয়ার ঘাট (জসীম উদদীন)
=================
* সাত ঘাটের জল এক করা।
অর্থ: প্রবল শক্তি (নিয়ে কিছু করা।)
------------------
#চতুরঙ্গ (কবিতা, বিজন ভট্টাচার্য)
=====================
* নেড়া একবারই বেলতলায় যায়।
অর্থ: তিক্ত অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক করে।
-------------------
#নাকের বদলে নরুন পেলাম (কবিতা, সলিল চৌধুরী) ভ
=================
* ভিটেয় ঘুঘু চরানো।
অর্থ: সর্বনাশ করা। (কবিতার লাইন: আমার ভিটেয় চরলো ঘুঘু ডিম দিল তোমাকে)
------------------
#রঙ্গব্যাঙ্গ গল্প, (গৌরকিশোর ঘোষ)
================
* ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।
অর্থ: নিজের খেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজ করা।
-------------------
#মধ্যবিত্ত (কবিতা, সুকান্ত ভট্টাচার্য)
=====================
* ভুঁইফোড় ।
অর্থ: হঠাৎ জেগে/বেড়ে উঠা।
------------------
#জল তবুও (কবিতা, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)
=================
* যত গর্জে তত বর্ষে না।
অর্থ: মিথ্যা আস্ফালন।
---------------
#এসো বর্ষা আলগোছে পা ফেলে। (কবিতা, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)
=====================
* মতিভ্রম।
অর্থ: ভুলপথে যাওয়া।
--------------------
#শামসুর রহমানের একটি কবিতায় ব্যবহ্রত:
===================
* সাপের পাঁচ পা দেখা।
অর্থ: অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা।
----------------
#বিজলীবালার মুক্তি (গল্প, মতি নন্দী)
=========================
* মড়া কখনও ভোঁস ভোঁস করে ঘুমায় না।
অর্থ: অসম্ভব।
-------------------------
#বুড়ো লোকটি (গল্প, মতি নন্দী)
=============
* শকুনের চোখ থাকে ভাগাড়ের দিকে।
অর্থ: যার যে জিনিসের প্রতি লোভ সে সেটির দিকে ছোটে।
----------------
#বিষবৃক্ষ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===============
* আসন টলা (উদা: “কমলমণি! তুমি বই/বিনে আমার কেহ নাই! একবার এসো”, শুনিয়া কমলমণির আসন টলিল)
অর্থ: কৃপাপ্রার্থীর জন্য চিত্ত চঞ্চল হওয়া।
* মাছ মরেছে, বিড়াল কান্দে।
অর্থ: কপট শোক (মাছের মার পুত্র শোক/ কুমিরের কান্না))
#কৃষ্ণকান্তের উইল (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
====================
* রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়,
উলু খাগড়ার প্রাণ যায়।।
অর্থ: প্রধান ব্যক্তির স্বার্থের দ্বন্দে সাধারণ মানুষের ক্ষতি।
----------------
#রাজসিংহ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===================
* বৃদ্ধস্য তরুণী বিষম।
অর্থ: তরুণীর সংসর্গ বয়স্ক পুরুষের জন্য অনিষ্টকর।
----------------
#সীতারাম (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
=======================
* যার কর্ম তারে সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে।
অর্থ: অভ্যস্ত লোকের পক্ষে যে কাজ সহজ, অন্যের জন্য তা কঠিন।
--------------------
#ইন্দিরা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===============
* ছেঁদো কথা।
অর্থ: কৌশলপূর্ণ সুন্দরভাবে সাজানো কথা/বাক্য। (সরাসরি না বলে কৌশলে কোন কথা ঘুরিয়ে বলা)
-----------------
* ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
অর্থ: টাকা থাকলে অনুচরের অভাব হয় না।
* পোয়াবারো (/সশরীরে স্বর্গলাভ )
অর্থ: আশাতীত সৌভাগ্য।
(*বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর লেখায় প্রাপ্ত আরো কয়েকটি- * অন্ধকারে ঢিল ছোড়া (আন্দাজে কিছু করা), আড়মোড়া ভাঙ্গা (আলস্য ত্যাগ),
-------------------
#পালামৌ (সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধায়)
===================
* জল স্পর্শ না করা।
অর্থ: অল্প আহারও না করা।
---------------
#স্বর্ণলতা (তারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়)
=================
* হাড় এক জায়গায় মাস (মাংস) এক জায়গায় করা। (/ উত্তম মধ্যম।)
অর্থ: বেদম প্রহার করা।
-------------------
#কজ্জলী (রাজশেখর বসু/ পরশুরাম)
=================
* লাই দিলে কুকুর মাথায় উঠে।
অর্থ: নীচ ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দিলে শেষে অসম্মান করে।
-------------------
#রমাসুন্দরী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়)
===================
* আঁকু পাঁকু করা।
অর্থ: অতি উদ্বেগে ছটফটানি।
-------------
#শ্রীকান্ত (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
==================
* কা-কস্য পরিবেদনা।
অর্থ: কারও প্রতি কারও সমবেদনা না থাকা। (শত সমস্যায় মানুষ পর্যুদস্ত, কিন্তু কা-কস্য পরিবেদনা!! নেতারা যে যার আখের গোছাচ্ছেন)
---------------
#চরিত্রহীন(শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
====================
* কামিনী-কাঞ্চন
অর্থ: ইন্দ্রীয় সুখের প্রধান উপকরণ নারী ও ধন।
--------------------
#দত্তা (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
==============
* তালপাতার সেপাই।
অর্থ: অতিশয় রোগা/ক্ষীণজীবি লোক।
-------------------
#পল্লীসমাজ (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
================
* আড়ালে রাজার মাকেও ডাইন বলে।
অর্থ: ভয়ে সামনাসামনি কিছু না বললেও অসাক্ষাতে নিন্দা করা।
-------------------
#শুভদা (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
===================
* কাটলেও রক্ত নেই, কুটলেও মাংস নেই।
অর্থ: এমন সঙ্গতিহীন যে তা থেকে কিছু আদায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
---------------
#দুই তার (চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়)
================
* অগস্ত্যা যাত্রা।
অর্থ: চিরকালের জন্য বিদায়/ প্রস্থান
-----------------
#রসকলি (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
=================
* অনভ্যাসের ফোঁটা, কপাল চড়চড় করে।
অর্থ: অনভ্যস্ত অবস্থায় কিছু করা কষ্টকর।
-------------------
#কালিন্দী (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
===================
* অধিকন্তু ন দোষায়।
অর্থ: অধিক হলে ক্ষতি নেই। (সে বলেছে আর পড়ার দরকার নেই, কিন্তু আমি অধিকন্তু ন দোষায় ভেবে আরেকবার পড়তে বললাম)
------------------
#বেদেনি (তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়)
=================
* কারে পড়িলে বাঘা ফড়িংও খায়।
অর্থ: বিপদের সময় হিতাহিত জ্ঞান/বিচার লোপ পায়।
-------------------
#রায়বাড়ী (গিরিবালা দেবী)
==============
* ঢেঁকিকে বুঝাব কত, নিত্য ধান ভানে।
অর্থ: যার যা কাজ সে তাই করতে থাকে (বুঝিয়ে লাভ নেই)
------------------
#পথের পাঁচালী (বিভূতীভূষণ বন্দোপাধ্যায়)
==================
* কুটো নাড়া (বা, কুটোগাছ ভেঙ্গে দুখান করা)
অর্থ: অতিশয় কর্মবিমুখ
*লেখকের আরো কয়েকটি- আকাশ থেকে পড়া/বিনা মেঘে বজ্রপাত (অপ্রত্যাশিত ঘটনা), আকাশ-পাতাল (অসংলগ্ন)
---------------------
#স্বর্গাদপি গরিয়সী (বিভূতীভূষণ মুখোপাধায়)
================
* আসলের চেয়ে সুদ মিষ্টি।
অর্থ: মূল বস্তু অপেক্ষা উৎপন্ন বস্তু অধিক প্রিয়।
------------------
#জঙ্গম (বলাইচাঁদ মুখোপ্যাধ্যায় / বনফুল)
===================
* উপর চালাক।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত চালাকি করে যে।
------------------
#কাঁচামিঠা (শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়)
================
* অরসিকেষু রসস্য নিবেদনম।
অর্থ: যার রসজ্ঞান নেই তাকে বুঝানো বৃথা।
#নবীনযাত্রা (মনোজ বসু)
=================
* ঢাকাই সাক্ষী
অর্থ: কারো দোষ ঢাকবার জন্য প্রদত্ত বিবৃতি।
----------------
#আকস্মিক (অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত)
====================
* অষ্টরম্ভা
অর্থ: ব্যর্থতা।
-------------
#দেশেবিদেশে (সৈয়দ মুজতবা আলী)
===================
* রথ দেখা কলা বেচা (এক ঢিলে দুই পাখি)
অর্থ: এক কাজের সঙ্গে আরেক কাজ সেরে নেওয়া।
----------------
#শৃঙ্খল (প্রেমেন্দ্র মিত্র)
===============
* দা-দেইজি।
অর্থ: নিকট আত্মীয়।
--------------
#জাগরী (সতীনাথ ভাদুড়ী)
=================
* অঙ্গার মতধৌতের মলিনত্বং ন মুঞ্চতি। (কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।
অর্থ: স্বভাবের পরিবর্তন সহজে হয় না।
#অতসীমামী (মানিক বন্দোপাধ্যায়)
===============
* কলা-বউ
অর্থ: অতিশয় লজ্জাশীলা নারী। (এতদিনের পরিচয়!!! এখনো কেন কলাবউ সাজ? )
----------------
#পদ্মানদীর মাঝি (মানিক বন্দোপাধ্যায়)
===================
* মাছের তেলে মাছ ভাজা (কইয়ের তেলে কই ভাজা)
অর্থ: বিনা/সামান্য ব্যয়ে কার্যসিদ্ধি করা।
#পাতাচাপা গল্প (আশাপূর্ণা দেবী)
==================
* আলুথালু
অর্থ: অগোছালো / অবিন্যস্ত
#তিতাস একটি নদীর নাম (অদ্বৈত মল্লবর্মণ)
====================
* কুরুক্ষেত্র ঘটানো
অর্থ: নিদারুণ কলহের সূত্রপাত।
১। আটে-পিটে ধরো, তবে ঘোড়ার উপরে চড়ো : যোগ্যতা অর্জন করে কাজ আরম্ভ করা
২। আঠার পর্ব মহাভারত : দীর্ঘ কাহিনী
৩। আটখানার পাটখানা : নানা কর্তব্যের মাঝে একটি
৪। আয়নাতে মুখ দেখা : আত্মসমালোচনা করা
৫। ঈগল স্বভাব : হিংস্র প্রকৃতির
৬। আড়াই অক্ষরে : অল্প কথায়
৭। আথিবিথি : তাড়াতাড়ি
৮। আদাড়ের হাড়ি : অনাদৃত ব্যক্তি
৯। আমড়া করা : কোন কিছু করতে না পারা
১০। আমড়া গাছি করা : অযথা প্রশংসা করা
১১। আমড়াভাতে করা : সৌন্দর্যহীন করা
১২। আপ্ত শ্রুতি : কিংবদন্তী
১৩। আপ্ত-গরজি : স্বার্থপর
১৪। আষাঢ়ান্ত বেলা : দীর্ঘস্থায়ী সময়
১৫। আয়নায় মুখ দেখা : যে যেমন, তার সাথে তেমন করা।
১৬। আল-টপকা : আচমকা
১৭। আলী মেজাজ : উন্নত মন
১৮। আগাপাছতলা : আদ্যন্ত
১৯। আরশিতে পড়শি দেখা : নিজের মত করে অন্যকে দেখা
২০। আটুনি কষুনি সার : কেবল আড়ম্বর মাত্র।
.
#প্রবাদ-প্রবচন :
১। বামন গেল ঘর, তো লাঙ্গল তুলে ধর : কর্তাব্যক্তির অনুপস্থিতিতে কাজে ফাকি দেয়া
২। বারো হাত কাকুড়ের তেরো হাত বিচি : সাধ্যের অতিরিক্ত দর্প
৩। বিষ নাই তার কুলোপানা চক্কর : অক্ষম ব্যক্তির বৃথা আস্ফালন
৪। ভাগের মা গঙ্গা পায় না : ভাগাভাগির কাজ বেশিরভাগই পন্ড হয়ে যায়
৫। ভোজনং যত্র তত্র, শয়নং হট্টমন্দিরং : ছন্নছাড়া জীবন
৬। গতস্য শোচনা নাস্তি : অতীত নিয়ে না ভাবা
৭। ঘরে ছুচোর কেত্তন, বাইরে কোচার পত্তন : গরিব লোকের বড়লোকি চাল
৮। চোর মরে সাত ঘর মজায়ে : খারাপ ব্যক্তি অন্যকে বিপদে পড়লে অন্যকেও সাথে জড়ায়
৯। চূড়ার ওপর ময়ূর পাখা : সোনায় সোহাগা
১০। চাল না চুলো, ঢেকি না কুলো : নিতান্ত দরিদ্রতা
১১। ঢাকের বাদ্য থামলেই মিষ্টি : দুঃসময় পেরিয়ে ভাল সময়ের আগমন
১২। নাইরে তাইরে না : উদ্দেশ্যহীন ভাবে সময় নষ্ট করা
১৩। ধোপা-নাপিত বন্ধ : একঘরে করা
১৪। নরম মাটি বিড়াল আচড়ায় লোকে ভাল মানুষকে কষ্ট দেয়
১৫। পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে : বিপদে পড়লে মানুষ স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ করতে বাধ্য হয়।
১৬। চড়কে কাঠি পড়া : কলহের সূত্রপাত হওয়া
১৭। ঝোলের লাউ, অম্বলের কদু : যে ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির জন্য সকলের মন জুগিয়ে চলে
১৮। ঝাল মরিচের লাল চামড়া : দুর্জনও দেখতে সুন্দর হতে পারে
১৯। টোপ গিলে না, ঠোকরায় : ছলনা করে
২০। ডোবা দেখলেই ব্যাঙ লাফায় : প্রিয় বস্তু দেখে আনন্দ।
#‘অতির গতি’ প্রবন্ধ: (বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* অতি দর্পে হত লঙ্কা।
অর্থ: অহংকার পতনের মূল।
* অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।
অর্থ: বেশি লোভ করা ভাল না।
* কথার ঢেঁকি কাজে ছাই।
অর্থ: কাজের পারদর্শী না অথব কথা বেশি বলে।
* অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট।
অর্থ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক যেকোন কিছুতে বিশৃঙ্খলার কারণ হয়।
* অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
অর্থ: যারা অধিক ভক্তি দেখায় প্রকৃতপক্ষে তারা ভক্তিহীন।
* অতি বড় রুপসী না পায় বর/অতি বড় ঘরণী না পান ঘর।
#হবুচন্দ্ররাজার গবুচন্দ্রমন্ত্রী: (দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার)
====================
* হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী।
অর্থ: স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন রাজার নির্বোধ মন্ত্রী।
--------------
#কুলীনকুলসর্বস্ব (রামনারায়ন তর্করত্ন)
====================
* উত্তম-মধ্যম দেওয়া।
অর্থ: প্রহার করা।
--------------
#একেই কি বলে সভ্যতা: (মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* কুলোর বাতাস দিয়ে দূর করা।
অর্থ: চরম অপমান করে বের করে দেওয়া।
----------------
#বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ(মধুসূদন দত্তের প্রহসন)
====================
* গতস্য শোচনা নাস্তি।
অর্থ: যা অতীত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা নিষ্প্রয়োজন।
---------------
#শর্মিষ্ঠা: (নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা।
অর্থ: পরের ক্ষতি করে নিজে লাভবান হওয়া।
----------------
#পদ্মাবতী(নাটক, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
====================
* বিষকুম্ভ, পয়োমুখম।
অর্থ: অন্তরে বিষ, মুখে মধু।
---------
#চলচ্চিত্ত-চঞ্চরি (ব্যাঙ্গনাটক, সুকুমার রায়)
====================
* ঢাক ঢাক গুড় গুড়।
অর্থ: কোন কিছু গোপন করার চেষ্টা।
---------------------
#নীলদর্পন: (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* কীটস্য কীট।
অর্থ: অতি নগণ্য ব্যক্তি
---------------
* ঠক বাঁচতে গা উজাড়
অর্থ: সাধু ব্যক্তি খোজে পাওয়া দায়।
---------------
* নিজের চরকায় তেল দেহ (দাও)।
অর্থ: অনধিকার চর্চায় সময় নষ্ট না করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা।
---------------
#জামাই বারিক (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* জোর যার মুল্লুক তার।
অর্থ: শক্তিবান বলপ্রয়োগে যা ইচ্ছা অধিকার করতে পারে।
------------------
#সধবার একাদশী (প্রহসন, দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অকাল কুষ্মান্ড।
অর্থ: অপদার্থ/ অযোগ্য ।
------------------
#লীলাবতী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* আকাশকুসুম
অর্থ: কাল্পনিক
#নবীন তপস্বিনী (দীনবন্ধু মিত্র)
====================
* অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসা। (বমি আসা)
অর্থ: ঘৃণাজনক পদার্থ।
----------------
#জনা (গিরিশচন্দ্র ঘোষ)
====================
* কান খাড়া করা।
অর্থ: একাগ্রভাবে শুনার জন্য অপেক্ষা করা।
------------------
#অলীকবাবু (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* বারোমাসে তের পার্বণ।
অর্থ: অনবরত উৎসব
-------------------
#নবযৌবন (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধান ভানতে শীবের গীত।
অর্থ: অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা।
------------------
#খাস দখল: (অমৃতলাল বসু)
====================
* চোরকে বলে চুরি করতে গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
অর্থ: দুই দিক বজায় রাখা।
----------------
#কালাপানি (অমৃতলাল বসু)
====================
* ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
অর্থ: বুদ্ধি দিয়ে বিনাকষ্টে কার্যসিদ্ধি।
#প্রতাপসিংহ (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
====================
* এই মারে তো এই মারে।
অর্থ: ক্রোধান্বিত হয়ে কাউকে মারতে উদ্যত হওয়া।
--------------------
#চন্দগুপ্ত (দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
============
* কার ঘাড়ে দুটো মাথা।
অর্থ: গুরু কার্যসম্পাদনে সু:সাহস করা।
--------------
#কিন্নরী (ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ)
==================
* কাঠবিড়ালের সাগর বাঁধা।
অর্থ: বৃহৎ কাজে সামান্য কারো সাধ্যমত সাহায্য।
------------------
#নীলকর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=====================
* গোদের উপর বিষফোঁড়া।
অর্থ: এক কষ্টের উপর আরেক কষ্ট।
-------------------
#দেহঘর (ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
=============
* ভূতের বেগার খাঁটা।
অর্থ: অহেতুক পরিশ্রম করা।
----------------
#আত্মবিলাপ(ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)
===============
* হাটেতে ভাঙ্গিয়া ভান্ড, কি খেলা খেলায় রে।
অর্থ: গোপন কথা প্রকাশ্যে বলে দেয়া।
----------------
#তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=================
* যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
অর্থ: রক্ষাকর্তার দ্বারা অনিষ্ট সাধন।
----------------
#ব্রজাঙ্গনা কাব্য (মধুসূদন দত্ত )
=======================
* মণিহারা ফণি।
অর্থ: ধন হারিয়ে শোকে আত্মহারা।
-------------
#বঙ্গসুন্দরী (বিহারীলাল চক্রবর্তী)
* ঝাল ঝাড়া।
অর্থ: রুঢ় কথা শুনিয়ে মনের জালা উপশম করা।
---------------
#সোনার তরী ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
* দিনে (দুপুরে) ডাকাতি।
অর্থ: দু:সাহসিক চুরি।
-----------------
#চিত্রা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পিত্ত জলে যাওয়া।
অর্থ: অতিশয় ক্রোধান্বিত হওয়া।
-----------------
#মানসী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=================
* কোমর বাঁধা।
অর্থ: অধিক আগ্রহ/সংকল্প নিয়ে কাজ করা।
-----------------
#চিঠি(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
====================
* সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্য ধরলে সুফল পাওয়া যায়।
-------------------
#চিরকুমার সভা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* মধুরেণ সমাপয়েৎ।
অর্থ: সকল ক্ষেত্রে সমাপ্তি সুন্দর হওয়া বাঞ্চনীয়।
#পেটে ও পিঠে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
================
* পেটে খেলে পিঠে সয়।
অর্থ: একদিক দিয়ে লাভ হলে অন্যদিকে ক্ষতি সহ্য হয়।
-------------------
* রামরাজত্ব।
অর্থ: ন্যায়পরায়ন ধার্মিক রাজার সুখী রাজ্য।
--------------
#চার অধ্যায় (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
======================
* কনে দেখা মেঘ ।
অর্থ: গোধুলী লগ্নের সময় (উজ্জল আলোয় পাত্রী দেখার উপযুক্ত সময়)
------------------
#চোখের বালি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
#বেনাবনে (উলুবনে) মুক্তা ছড়ানো।
অর্থ: অস্থানে মূল্যবান কিছু রাখা (যার কোন সুফল নেই)।
-------------------
#গোরা(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
==================
* মরার বাড়া গাল নেই।
অর্থ: চরম দুর্দশা অবস্থা (যার পর আর অধিক অমঙ্গল হতে পারে না)
----------------
#ছিন্নপত্র: (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
===================
* তুর্কি নাচন নাচা।
অর্থ: অস্থির অঙ্গচালনা।
------------------
#গল্পগুচ্ছ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
=====================
* কানে মন্ত্র দেওয়া
অর্থ: কুপরামর্শ দেয়া।
============================
No comments:
Post a Comment